ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৩১৪, আক্রান্ত ৪২৩, মৃত্যু ১০

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাবে গত ১৫ দিনে ৪২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে শুরু করছে। আগামী রোববার থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছে মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, রোববার থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় অন্যান্য টিকাদান কার্যক্রমও চলমান থাকবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে সারা দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, দেশজুড়ে হামের আকস্মিক বিস্তার গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে (বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত) ৪২৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান আমার দেশকে বলেন, বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত শেষ ১৫ দিনে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩১৪ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে হামে। যার মধ্যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এই ডাটা প্রায় নির্ভুল। কারণ একদম উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগ হয়ে আমাদের হাতে আসে। ডাটায় কোনো গ্যাপ থাকার সম্ভাবনা নেই। থাকলেও খুবই কম।

এই অবস্থায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়া হায়দার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে মনে করেন ডা. রায়হান। তিনি বলেন, ওনার সিদ্ধান্তে জুন থেকে যে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথাছিল, সেই ক্যাম্পেইনের ২ কোটি ১৯ লাখ টিকা ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে ব্যবহার করা হবে। এতদিন আমরা টিকা দেওয়া শুরু করতে পারতাম, শুধু সিদ্ধান্তের সংকট ছিল আর কোনো সংকট ছিলো না। এখন আমাদের এসব টিকা ব্যবহার করা হবে, পরবর্তীতে আবার ক্যাম্পেইনের টিকাগুলো দিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলো দিয়েই নিয়মিত ক্যাম্পেইন জুনে শুরু হবে।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে হামের টিকার অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়েরের কথাও বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১৫ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৩১৪, আক্রান্ত ৪২৩, মৃত্যু ১০

আপডেট সময় ১০:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাবে গত ১৫ দিনে ৪২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে শুরু করছে। আগামী রোববার থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছে মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, রোববার থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় অন্যান্য টিকাদান কার্যক্রমও চলমান থাকবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে সারা দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, দেশজুড়ে হামের আকস্মিক বিস্তার গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে (বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত) ৪২৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান আমার দেশকে বলেন, বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত শেষ ১৫ দিনে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩১৪ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে হামে। যার মধ্যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এই ডাটা প্রায় নির্ভুল। কারণ একদম উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগ হয়ে আমাদের হাতে আসে। ডাটায় কোনো গ্যাপ থাকার সম্ভাবনা নেই। থাকলেও খুবই কম।

এই অবস্থায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়া হায়দার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে মনে করেন ডা. রায়হান। তিনি বলেন, ওনার সিদ্ধান্তে জুন থেকে যে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথাছিল, সেই ক্যাম্পেইনের ২ কোটি ১৯ লাখ টিকা ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে ব্যবহার করা হবে। এতদিন আমরা টিকা দেওয়া শুরু করতে পারতাম, শুধু সিদ্ধান্তের সংকট ছিল আর কোনো সংকট ছিলো না। এখন আমাদের এসব টিকা ব্যবহার করা হবে, পরবর্তীতে আবার ক্যাম্পেইনের টিকাগুলো দিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলো দিয়েই নিয়মিত ক্যাম্পেইন জুনে শুরু হবে।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে হামের টিকার অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়েরের কথাও বলা হয়েছে।