বিএনপি এমপির বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের টর্চারসেলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
- আপডেট সময় ১০:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
দলীয় নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে গিয়ে নিজ বাসভবনের টর্চার সেলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে মান্দা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান।
লিখিত বক্তব্যে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘রোববার (৫ এপ্রিল) মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে প্রসাদপুর বাজার এলাকা থেকে এমপির সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ও এপিএস মোহাম্মদ আলী এবং গোল্ডেনসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী পেটাতে পেটাতে টানাহেঁচড়া করে এমপির নিজ বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরে এমপির বাড়ির নিচতলায় টর্চার সেলে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘‘তোকে যদি মান্দা উপজেলার বিএনপি কমিটির লোকজনের সঙ্গে কর্মসূচি পালন করতে দেখি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবো।’’ তাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে থানাতে নিয়ে যায়। পরবর্তী আমরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
বক্তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তার ওপরও হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক সান্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ। যার মাধ্যমে দলীয় ভিন্নমত দমন এবং ব্যক্তিগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।’
বক্তারা বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই তিনি দলীয় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রকাশ্য ও গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি ত্যাগী ও কমিটি ভুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর তার নিজস্ব গুন্ডাবাহিনী দ্বারা নির্যাতন চালিয়ে এবং কথিত সরকারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে মারধর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। পারিবারিক স্বজন প্রীতির মাধ্যমে সরকারি সুযোগ সুবিধা বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ, কৃষি ভর্তুকি, চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও পুলিশি চাপ সৃষ্টি করে জমি ও খাসপুকুর জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছেন। তার নিজ বাসভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। যা দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিচার চেয়ে বক্তারা বলেন, ‘এমপি টিপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরকারি ও দলীয় সোর্সের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তার চাঁদাবাজি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গুরুতর আহত নেতা আবুল কালাম আজাদ ও শামসুল ইসলাম বাদলের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে মান্দা উপজেলা বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, ভারশো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী বকুলসহ বিএনপির অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ এ সংক্রান্ত বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















