ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মসজিদ কমিটি নিয়ে বিএনপি-ছাত্রদল নেতার সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৯:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের তারাগঞ্জে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ওই মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর কমিটি ভেঙে যায়। আজ দুপুরে কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মসজিদের জমি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মসজিদের নামে থাকা প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক দেওয়া ও আরও ১৫ শতক জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে তিনি আলোচনা ছাড়াই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপুকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সভায় উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও তার বড় ভাই গোলাম সরওয়ারের সঙ্গে মেহেদী হাসান শিপু ও সোহেল রানার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দুই পক্ষ মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সভাপতি মারা যাওয়ার পর আমরা নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। এ সময় মসজিদের জমিজমা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে সোহেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। সোহেল কারও সম্মতি ছাড়াই মেহেদীকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত জানান। সেখানে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু গেলে গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু বলেন, ‘কমিটি নিয়ে ওরা বসেছিল। আমি দেখতে গিয়ে দেখি হট্টগোল। পরে থামানোর চেষ্টা করি। এখন উল্টো আমার সঙ্গে গন্ডগোল করতে চাচ্ছে। আমি তো সভাপতি হতেও চাইনি।

শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার দাদা জমি দান করেছেন। আমার বাবা সেই জমি বন্ধক দিয়েছেন। ১৬ বিঘা নয়, আড়াই বিঘা। আমি কোনো ঝামেলা করিনি। ওরাই গন্ডগোল করেছে। ওরাই গায়ে হাত তুলেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

মসজিদ কমিটি নিয়ে বিএনপি-ছাত্রদল নেতার সংঘর্ষ

আপডেট সময় ০৯:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের তারাগঞ্জে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ওই মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর কমিটি ভেঙে যায়। আজ দুপুরে কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মসজিদের জমি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মসজিদের নামে থাকা প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক দেওয়া ও আরও ১৫ শতক জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে তিনি আলোচনা ছাড়াই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপুকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সভায় উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও তার বড় ভাই গোলাম সরওয়ারের সঙ্গে মেহেদী হাসান শিপু ও সোহেল রানার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দুই পক্ষ মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সভাপতি মারা যাওয়ার পর আমরা নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। এ সময় মসজিদের জমিজমা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে সোহেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। সোহেল কারও সম্মতি ছাড়াই মেহেদীকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত জানান। সেখানে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু গেলে গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু বলেন, ‘কমিটি নিয়ে ওরা বসেছিল। আমি দেখতে গিয়ে দেখি হট্টগোল। পরে থামানোর চেষ্টা করি। এখন উল্টো আমার সঙ্গে গন্ডগোল করতে চাচ্ছে। আমি তো সভাপতি হতেও চাইনি।

শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার দাদা জমি দান করেছেন। আমার বাবা সেই জমি বন্ধক দিয়েছেন। ১৬ বিঘা নয়, আড়াই বিঘা। আমি কোনো ঝামেলা করিনি। ওরাই গন্ডগোল করেছে। ওরাই গায়ে হাত তুলেছে।’