ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমার অজ্ঞাতসারে বেশি দামে পণ্য সরবরাহ করতেন মঈন, বাদ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন: ডা. কামরুল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শ্যামলীতে সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈনের ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগের পর নতুন তথ্য জানালেন আলোচিত মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই হাসপাতালটিতে মালামাল সরবরাহের জন্য ‘ডিস্টার্ব’ করতেন। এমনকি ডা. কামরুলের অজ্ঞাতে বেশি দামে পণ্য সরবরাহ করতেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর তাকে বাদ দেওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং হাসপাতালটিতে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই মঈন উদ্দিন বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহের কাজ চাইছিলেন। এ নিয়ে নানা সময়ে ডিস্টার্ব করতেন। এমনকি আমার অজ্ঞাতসারে ডিম ও চালও সরবরাহ করতেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তো এটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে এত বেশি দামে কিনব। তখন আমরাই সরাসরি বাজার থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেই।

অধ্যাপক কামরুল বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এর আগে গত ২৯ মার্চও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেন, এই ছেলে খারাপ, কাউকে মানে না। মবের পর পুলিশও ভয় পাচ্ছে দেখলাম। আমরা ভয় পাই, পুলিশও ভয় পেলে কীভাবে চলবে?

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও স্টাফদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রশাসন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আমার অজ্ঞাতসারে বেশি দামে পণ্য সরবরাহ করতেন মঈন, বাদ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন: ডা. কামরুল

আপডেট সময় ০৮:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলীতে সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈনের ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগের পর নতুন তথ্য জানালেন আলোচিত মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই হাসপাতালটিতে মালামাল সরবরাহের জন্য ‘ডিস্টার্ব’ করতেন। এমনকি ডা. কামরুলের অজ্ঞাতে বেশি দামে পণ্য সরবরাহ করতেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর তাকে বাদ দেওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং হাসপাতালটিতে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই মঈন উদ্দিন বিভিন্ন ধরনের মালামাল সরবরাহের কাজ চাইছিলেন। এ নিয়ে নানা সময়ে ডিস্টার্ব করতেন। এমনকি আমার অজ্ঞাতসারে ডিম ও চালও সরবরাহ করতেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তো এটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে এত বেশি দামে কিনব। তখন আমরাই সরাসরি বাজার থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেই।

অধ্যাপক কামরুল বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এর আগে গত ২৯ মার্চও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেন, এই ছেলে খারাপ, কাউকে মানে না। মবের পর পুলিশও ভয় পাচ্ছে দেখলাম। আমরা ভয় পাই, পুলিশও ভয় পেলে কীভাবে চলবে?

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও স্টাফদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রশাসন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।