ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম ডিঙিয়ে অধ্যাপক হচ্ছেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ও সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ৯ ড্যাব নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধা ডিঙিয়েই অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্বাস্থ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ ১০ চিকিৎসক। এই তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতিও।

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে পাঠানো এক পত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে গত ৩ ও ৯ মার্চ এসব চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা প্রমার্জনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আবেদন করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত নিম্নোক্ত শিক্ষকগণের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির শর্ত হিসেবে সক্রিয় শিক্ষকতার সময়সীমা প্রমার্জনের প্রস্তাবটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এমতাবস্থায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে বিষয়টি অবহিত করা হল।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদোন্নতি পেতে যাওয়া ১০ চিকিৎসক হচ্ছেন—অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম, ডা. মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, শিশু সার্জারি বিভাগের ডা. এ.এম শাহীনুর, ইউরোলজি বিভাগের ডা. মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফিটোমেটারনাল মেডিসিনের ডা. উম্মে কুলসুম, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির ডা. মো. জাহিদুর রহমান ও শিশু নিউরোলজি বিভাগের ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম।

এর মধ্যে বিএনপি স্বাস্থ্য সম্পাদক ছাড়া বাকিরা ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী শাখা ড্যাবের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং আর ডা. শেখ ফরহাদ সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর। এ ছাড়া ডা. মো. আব্দুস সালাম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি। এর বাইরে ডা. মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও ডা. এ এম শাহীনুর শাখা কমিটিতে রয়েছে। বাকিরা ড্যাবের লাইফ মেম্বার।

এ ঘটনা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড ও দীর্ঘদিনের একাডেমিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, অভিজ্ঞতার নির্ধারিত শর্ত শিথিল করে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা যোগ্যতা যাচাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের প্রমার্জনা ভবিষ্যতে একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যেষ্ঠ একজন অধ্যাপক বলেন, যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাদের প্রতি এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। কেবল দলীয় বিবেচনায় এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ যেন মহোৎসব চলছে’— উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, একাডেমিক জগতে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মেধা, গবেষণা ও পেশাগত সততাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এই মৌলিক নীতি থেকে বিচ্যুতি ঘটলে তা শুধু একটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি অনভিপ্রেত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ ফরহাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। বিএমইউ ড্যাব সভাপতি ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম ডিঙিয়ে অধ্যাপক হচ্ছেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ও সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ৯ ড্যাব নেতা

আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধা ডিঙিয়েই অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্বাস্থ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ ১০ চিকিৎসক। এই তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতিও।

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে পাঠানো এক পত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে গত ৩ ও ৯ মার্চ এসব চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা প্রমার্জনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আবেদন করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত নিম্নোক্ত শিক্ষকগণের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির শর্ত হিসেবে সক্রিয় শিক্ষকতার সময়সীমা প্রমার্জনের প্রস্তাবটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এমতাবস্থায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে বিষয়টি অবহিত করা হল।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদোন্নতি পেতে যাওয়া ১০ চিকিৎসক হচ্ছেন—অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম, ডা. মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, শিশু সার্জারি বিভাগের ডা. এ.এম শাহীনুর, ইউরোলজি বিভাগের ডা. মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফিটোমেটারনাল মেডিসিনের ডা. উম্মে কুলসুম, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির ডা. মো. জাহিদুর রহমান ও শিশু নিউরোলজি বিভাগের ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম।

এর মধ্যে বিএনপি স্বাস্থ্য সম্পাদক ছাড়া বাকিরা ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী শাখা ড্যাবের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং আর ডা. শেখ ফরহাদ সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর। এ ছাড়া ডা. মো. আব্দুস সালাম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি। এর বাইরে ডা. মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও ডা. এ এম শাহীনুর শাখা কমিটিতে রয়েছে। বাকিরা ড্যাবের লাইফ মেম্বার।

এ ঘটনা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড ও দীর্ঘদিনের একাডেমিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, অভিজ্ঞতার নির্ধারিত শর্ত শিথিল করে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা যোগ্যতা যাচাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের প্রমার্জনা ভবিষ্যতে একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যেষ্ঠ একজন অধ্যাপক বলেন, যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাদের প্রতি এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। কেবল দলীয় বিবেচনায় এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ যেন মহোৎসব চলছে’— উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, একাডেমিক জগতে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মেধা, গবেষণা ও পেশাগত সততাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এই মৌলিক নীতি থেকে বিচ্যুতি ঘটলে তা শুধু একটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি অনভিপ্রেত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ ফরহাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। বিএমইউ ড্যাব সভাপতি ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।