ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাকসু ভিপি’র আপত্তিতে ভেস্তে গেল গণভোট বিষয়ক সেমিনার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ব্যানারে গণভোট অধ্যাদেশ ও জুলাই সনদ নিয়ে একটি সেমিনার ভেস্তে গেছে। জাকসুর প্রায় সব নেতা একমত হলেও ভিপি না চাওয়ায় ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেই প্রোগ্রামটি আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তবে ভিপি ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তা অস্বীকার করেছেন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দুই দফায় উদ্যোগ নেওয়ার পরও তা সফল করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।‎

রবিবার (১২ এপ্রিল) ‘গণভোটের রায় নিয়ে গড়িমসি ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: কোন পথে বাংলাদেশ!’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজনের কথা ছিল। এর আগে ৯ এপ্রিল প্রথম দফায় ‘গনভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উপাচার্যের অনুরোধে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আহসান লাবিব অভিযোগ করেন, নতুন তারিখ নির্ধারণের পরও ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু শুরু থেকেই সেমিনার আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি ‘সব পক্ষের অংশগ্রহণ না থাকলে’ সেমিনারে থাকবেন না বলে অবস্থান নেন এবং জাকসুর ব্যানারে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

লাবিবের দাবি, পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমতি, জাকসুর সব সদস্যের স্বাক্ষরে আবেদনসহ নানা শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ভিপি স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপাচার্যের অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত অজুহাত তুলে অনুষ্ঠান নিরুৎসাহিত করা হয় এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, জাকসু ভেঙে দেওয়ার হুমকিও আসে। ফলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও আয়োজকদের সেমিনারটি পুনরায় স্থগিত করতে হয়।

আহসান লাবিব বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে কর্মসূচি আয়োজন সম্ভব হলেও এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না অভিযোগ তুলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে আব্দুর রশিদ জিতুসহ বেশ কয়েকজন সমন্বয়ক মিলে তৈরি করেছিল ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামক প্লাটফর্ম। উক্ত প্লাটফর্মের আহবায়ক ছিলেন আব্দুর রশীদ জিতু।

অথচ তিনি ভিপি হওয়ার পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে দিচ্ছেন না। এ জায়গা থেকে বলা যায়, উনি সরাসরি গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে উনি দাঁড়িয়েছেন। এটি সুস্পষ্টভাবে জুলাই এর সাথে গাদ্দারি।

এ বিষয়ে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে আমি কোনো ধরনের অসহযোগিতা করিনি বরং শুরু থেকেই বলেছি বিষয়টি যেন জাকসুর সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জাকসুর ব্যানারে আয়োজন করা হয়। কিন্তু ৯ তারিখে প্রকাশিত হেডলাইনটি একপাক্ষিক হওয়ায় শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি জাকসুর মতো একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে সেমিনারটি যেন বহুমতভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। এছাড়া অতিথি নির্বাচন ও সেমিনারের শিরোনাম সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি; পোস্টার প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তীতে আলোচনা ও সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বক্তাদের মধ্যে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’

এ জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরই সেমিনারটি আয়োজন করার অনুরোধ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, একপাক্ষিক আয়োজন জাকসুর জন্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

জাকসুর ভিপি জিতুকে সেমিনার বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে আহসান লাবিব জানান, সেমিনারের বিষয়ে সর্বপ্রথম জাকসুর ভিপির সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল এবং তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে অতিথিদের খসড়া দেখানোর জন্য ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাকসু ভিপি’র আপত্তিতে ভেস্তে গেল গণভোট বিষয়ক সেমিনার

আপডেট সময় ০১:০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ব্যানারে গণভোট অধ্যাদেশ ও জুলাই সনদ নিয়ে একটি সেমিনার ভেস্তে গেছে। জাকসুর প্রায় সব নেতা একমত হলেও ভিপি না চাওয়ায় ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেই প্রোগ্রামটি আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তবে ভিপি ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তা অস্বীকার করেছেন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দুই দফায় উদ্যোগ নেওয়ার পরও তা সফল করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।‎

রবিবার (১২ এপ্রিল) ‘গণভোটের রায় নিয়ে গড়িমসি ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: কোন পথে বাংলাদেশ!’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজনের কথা ছিল। এর আগে ৯ এপ্রিল প্রথম দফায় ‘গনভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উপাচার্যের অনুরোধে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আহসান লাবিব অভিযোগ করেন, নতুন তারিখ নির্ধারণের পরও ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু শুরু থেকেই সেমিনার আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি ‘সব পক্ষের অংশগ্রহণ না থাকলে’ সেমিনারে থাকবেন না বলে অবস্থান নেন এবং জাকসুর ব্যানারে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

লাবিবের দাবি, পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমতি, জাকসুর সব সদস্যের স্বাক্ষরে আবেদনসহ নানা শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ভিপি স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপাচার্যের অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত অজুহাত তুলে অনুষ্ঠান নিরুৎসাহিত করা হয় এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, জাকসু ভেঙে দেওয়ার হুমকিও আসে। ফলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও আয়োজকদের সেমিনারটি পুনরায় স্থগিত করতে হয়।

আহসান লাবিব বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে কর্মসূচি আয়োজন সম্ভব হলেও এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না অভিযোগ তুলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে আব্দুর রশিদ জিতুসহ বেশ কয়েকজন সমন্বয়ক মিলে তৈরি করেছিল ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামক প্লাটফর্ম। উক্ত প্লাটফর্মের আহবায়ক ছিলেন আব্দুর রশীদ জিতু।

অথচ তিনি ভিপি হওয়ার পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে দিচ্ছেন না। এ জায়গা থেকে বলা যায়, উনি সরাসরি গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে উনি দাঁড়িয়েছেন। এটি সুস্পষ্টভাবে জুলাই এর সাথে গাদ্দারি।

এ বিষয়ে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে আমি কোনো ধরনের অসহযোগিতা করিনি বরং শুরু থেকেই বলেছি বিষয়টি যেন জাকসুর সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জাকসুর ব্যানারে আয়োজন করা হয়। কিন্তু ৯ তারিখে প্রকাশিত হেডলাইনটি একপাক্ষিক হওয়ায় শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি জাকসুর মতো একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে সেমিনারটি যেন বহুমতভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। এছাড়া অতিথি নির্বাচন ও সেমিনারের শিরোনাম সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি; পোস্টার প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তীতে আলোচনা ও সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বক্তাদের মধ্যে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’

এ জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরই সেমিনারটি আয়োজন করার অনুরোধ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, একপাক্ষিক আয়োজন জাকসুর জন্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

জাকসুর ভিপি জিতুকে সেমিনার বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে আহসান লাবিব জানান, সেমিনারের বিষয়ে সর্বপ্রথম জাকসুর ভিপির সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল এবং তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে অতিথিদের খসড়া দেখানোর জন্য ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।