জাতীয়

সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ ও নূপুর-নবীনের শাস্তি দাবী

2022/06/21/_post_thumb-2022_06_21_23_31_23.jpg

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে কটূক্তকারী ভারতের ক্ষমতাসীন সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

মঙ্গলবার (২১ জুন) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল ও স্মারক লিপি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবী জানান তার।

এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, দলের আমির ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা করা হচ্ছে। মুসলমানদের বাড়িঘর ভাঙ্গা হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে। বক্তারা বলেন, ভারতের এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে অনেক দেশ ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এবিষয়ে নীরব। মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ তো দূরের কথা শেখ হাসিনার সরকার একটি শব্দও করছে না। বক্তারা অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানিয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের দাবী জানান। বিজেপি নেতা নূপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, মুসলমানরা ভারত এক হাজার বছর শাসন করেছে। কিন্তু একজন হিন্দুকেও তখন আঘাত করা হয়নি। অথচ বর্তমান ভারতে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদের শাসনে প্রতিদিন সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা হচ্ছে। ভারত যদি সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ না করে তাদের রাষ্ট্র একদিন ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে যাবে। বক্তারা অবিলম্বে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করে প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে। ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিলের আগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, আমি নবী (সা.) কে দুনিয়ায় রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি। যারা নবীর শানে বেয়াদবি করবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। ভারতে মুসলমানদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন করা হচ্ছে ভারতে। ভারতের সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকারের প্রশ্রয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে নবীন কুমার ও নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, নবীর দুশমনদের শাস্তি না দেয়ার কারণে মোদি সরকার তছনছ হয়ে যাবে।

খেলাফত আন্দোলনের আমীর বলেন, ভারতে নবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে অনেক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ইহুদীরা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্ত আমাদের সরকার এখনো কোনো প্রতিবাদ না করায় সারা দুনিয়ার মুসলমানরা বিস্মিত। সংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট জনগনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছে না। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে। কিন্তু সরকার সাম্প্রদায়িক বিজেপি’র সাথে সখ্যতা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদ না করে। অবশ্যই শেখ হাসিানার সরকারকে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নবী(সা.)-এর শানে বেয়াদবির প্রতিবাদে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনুন। আল্লাহ আপনার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন।

মুফতি সুলতান মহিউদ্দিনের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, দলের নায়েবে আমির ও মহানগরী আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, দলের শীর্ষ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, মাওলানা ইকরামমুল হক পীর সাহেব উজানী, যুগ্ম মহাসচিব হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি আকরাম হোসেন, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী, মুফতি মাহমুদুর রহমান,. মাওলানা আক্তারুজ্জামান, মাওলানা শেখ সাদী, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন,মাওলানা রফিকুল ইসলাম বিন নূরী, মুফতি মো. ইউসুফ ও মাওলানা আক্তারুজ্জামান সাজেদী।


পরে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে আল্লামা শাহ আতাউল্লাহর নেতৃত্বে গণমিছিল শুরু হলে পুরানা পল্টন মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। পরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের একটি প্রতিনিধি দলে স্মারকলিপি নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসে যান।


মন্তব্য