যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবি উপাচার্যের
- আপডেট সময় ০১:১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মর্মান্তিক পরিণতির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, মার্কিন পুলিশ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসভবন থেকে উদ্ধারকৃত রক্তের নমুনা ও মানবদেহের একটি অংশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে সেটি নাহিদা বৃষ্টির বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে তার দেহের পূর্ণাঙ্গ অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
এদিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘নাহিদা বৃষ্টি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এই শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছিলাম। মনে আশা ছিল, হয়তো নাহিদা বৃষ্টিকে আমরা সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাব। কিন্তু তার মৃত্যু সংবাদ আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ করে দিয়েছে।’
শোকবার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দেশটির প্রচলিত আইনে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী—জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, পুলিশ তাদের উভয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নাহিদা বৃষ্টির বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।


























