কুমিল্লায় মাদক কারবারির পক্ষে বিএনপি নেতাদের তদবির
- আপডেট সময় ০১:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদক কারবারিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং কুমিল্লা বারের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলম, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুলের নাম।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী জেলার বুড়িচং রাজাপুর ইউনিয়নের চড়নল গ্রামের বাসিন্দা ও একাধিক মাদক মামলার আসামি, রাজাপুর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে রক্ষা করতে ফোনে এসব কথা বলেন এই বিএনপি নেতা। অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “থানাওয়ালা আইলে আমারে ফোন লাগাই দিও”, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে পুলিশের একটি অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন অ্যাডভোকেট তাইফুর আলম। ফোনালাপে তিনি অই মাদক কারবারিকে সাহস যোগাতে এসব কথা বলেন। এসব কথা আমার দেশকে বলেন মাদক কারবারি হুমায়ুন কবির।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন। মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে নিজ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক পরিচয়ের মাদকসংশ্লিষ্টদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্টও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে বুড়িচং থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র দুই ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই তিনি মুক্ত হয়ে যান। পরে বিষয়টি জনসমক্ষে আলোচিত হলে পুলিশ পুনরায় তাকে আটক করে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারের পরও মাদক মামলার পরিবর্তে অন্য একটি মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়, যাতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের প্রভাব কমানো যায়। পরদিনই জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি থানার ওসির ওপরও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তবে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
আসামিকে ছাড়তে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল থানায় গিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি করেন বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতা মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবির।
স্থানীয় চরণল গ্রামের এবং বুড়িচং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অনেক কটি মাদক মামলা রয়েছে । তার কারণে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংস । ইউনিয়ন বিএনপির কিছু লোক তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে ।
এ বিষয়ে মাদক কারবারি ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, আমাকে যখন থানায় নিয়া যায় তখন সেখানে কবির হোসেন ও হুমায়ুন কবির বাবুল ভাই গিয়ে আমাকে ছাড়াতে সুপারিশ করছিল এবং তাইফুর ভাইও চেষ্টা করছিল। এছাড়া রাজাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মেম্বারসহ গিয়েছিল । পরে আমাকে পুলিশ চালান করে দেয়। তারপর তাইফুর ভাই আদালত থেকে জামিন করে দেয়।
থানায় গিয়ে মাদক কারবারিকে ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল একই ধরনের কথা বলেন । তারা বলেন, ‘মাদক কারবারি এবং আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে আমি সুপারিশ করব- এটার প্রশ্নই উঠে না । সে আমার নামে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে । আমরা কখনো থানায় যাইনি। ’
‘থানাওয়ালা আইলে আমারে ফোন লাগাই দিও’- এই ধরনের কথা বলে মাদক ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী লীগ নেতাকে আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং কুমিল্লা বারের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলম বলেন, মাদক কারবারি হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার জামিন আমি করে দিয়েছি । এটা ছিল সোলারের মামলা। এছাড়া সেই যেসব কথা বলেছে- এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগে মাদক কারবারি হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হলে যে কোনো কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় । তারপর দুই ঘণ্টা পর আবারও গ্রেপ্তার করা হয় । একটি মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করেছি । সব কথা যদি ফাঁস করে দেন, তাহলে তো আমরা বিপাকে পড়ি ।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, ‘মাদক কারবারিদের পক্ষে বিএনপি নেতাদের সুপারিশ করাটা ঠিক হয়নি । অন্য মামলায় চালান করা হলেও মাদক মামলাগুলো অটোমেটিক লেগে যাবে ।
মাদক কারবারীদের ছাড়তে বিএনপি নেতারা থানায় তদবির করছেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা -২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, আমি সংসদে একটি বৈঠকে আছি । সুপারিশ করার বিষয়টি সঠিক হয়নি । আমি এ বিষয়ে পরে কথা বলব ।



















