ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিজিএফের অর্ধেক কার্ড বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দিলেন চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক কার্ড বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসব কার্ড বিএনপি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক অর্থাৎ চার হাজার ২৪টি কার্ড সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য সরকার মোট আট হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে একজন সুবিধাভোগী ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসেবে ইউনিয়নে মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের কথা। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‌‘ভিজিএফের চাল গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। অর্ধেক কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।’

তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সরকারি ভিজিএফের কার্ড যাতে প্রকৃত গরিব ও অসহায় মানুষ পায়, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মাত্র।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে পাইকারি হারে কার্ড হস্তান্তরের বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিজিএফের অর্ধেক কার্ড বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দিলেন চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৯:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক কার্ড বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসব কার্ড বিএনপি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক অর্থাৎ চার হাজার ২৪টি কার্ড সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য সরকার মোট আট হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে একজন সুবিধাভোগী ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসেবে ইউনিয়নে মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের কথা। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‌‘ভিজিএফের চাল গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। অর্ধেক কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।’

তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সরকারি ভিজিএফের কার্ড যাতে প্রকৃত গরিব ও অসহায় মানুষ পায়, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মাত্র।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে পাইকারি হারে কার্ড হস্তান্তরের বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’