ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে’-বিএনপি নেতার স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় বিভিন্ন সরকারি সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। প্রতারণা বুঝতে পেরে এবং টাকা ফেরত না পেয়ে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এ ঘটনা।

সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। ভুক্তভোগীরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অনেকের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা সংগ্রহ করেন বিএনপির ওই নেতা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সুবিধা না পাননি ভুক্তভোগীরা। এতে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

পরে শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড দেয়নি ওই নেতা।

আরেক ভুক্তভোগী হোটেল কর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে। কিন্তু লোকজন টাকা দিয়েছে কেন? যেহেতু তারা মারছে, তাই টাকা পরিশোধ।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছে। তাকে আমাদের দলের সাথে কর্মকাণ্ড চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে’-বিএনপি নেতার স্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

পাবনায় বিভিন্ন সরকারি সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। প্রতারণা বুঝতে পেরে এবং টাকা ফেরত না পেয়ে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এ ঘটনা।

সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। ভুক্তভোগীরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অনেকের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা সংগ্রহ করেন বিএনপির ওই নেতা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সুবিধা না পাননি ভুক্তভোগীরা। এতে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

পরে শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড দেয়নি ওই নেতা।

আরেক ভুক্তভোগী হোটেল কর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে। কিন্তু লোকজন টাকা দিয়েছে কেন? যেহেতু তারা মারছে, তাই টাকা পরিশোধ।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছে। তাকে আমাদের দলের সাথে কর্মকাণ্ড চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।