ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কাজ পাচ্ছে আওয়ামী ঠিকাদাররা’, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ফখরুলের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল টেন্ডার প্রক্রিয়ার (ই-জিপি) ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ঠিকাদাররা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।

তিনি এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘এ ধরনের কারচুপি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার, যাদের প্রোফাইল কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী, তারা ই-জিপির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাজগুলো সহজে পেয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সেই ঠিকাদাররা নিজেরা মাঠে কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে স্থানীয় অযোগ্য লোকদের কাছে কাজগুলো কয়েক দফায় বিক্রি বা হাতবদল করছেন। দাম কমে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই স্থানীয় পর্যায়ে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী খোদ সংসদ সদস্যরা।

এই অনিয়ম রুখতে এবং স্থানীয় ঠিকাদারদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ঠিকাদারি পদ্ধতিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

সংসদ সদস্যদের এমন উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যা ও ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার পুরোপুরি অবগত আছে। এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা ও কাজের ক্ষতিকর হাতবদল ঠেকাতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সঠিক ও যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা যেন যথাযথভাবে কাজ পান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর মান বজায় থাকে, সেজন্য বিদ্যমান ক্রয় আইন বা পিপিআর কীভাবে রিভিউ বা সংশোধন করা যায়, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই হাতবদলের চক্করে মূল বাজেট কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। সংসদ সদস্যের এমন গুরুতর সব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনিয়ম ও মহামারি রূপ নেওয়া সংকট রুখতে বিদ্যমান ক্রয় আইন বা পিপিআর পর্যালোচনার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, দেশের গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। এসব বহিরাগত ঠিকাদাররা নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা থাকে না। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয় না এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার মতো অভিযোগ ওঠে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন এই কাজগুলো বারবার হাতবদল হয়ে স্থানীয় অযোগ্য ঠিকাদারদের কাছে চলে আসে। এতে করে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা লোপাট হওয়ায় মূল কাজের বাজেট কমে যায়। পরবর্তীতে সেই লোকসান মেটাতে গিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি কাজের গুণগত মান ধ্বংস করছে। অথচ স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা ও জনসাধারণের চাহিদা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির ভয়ে কাজের প্রতি অধিক দায়িত্বশীল হন।

সংসদ সদস্যের এমন নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এলজিইডির আওতায় পিপিএ ২০০৬ এবং পিপিআর অনুযায়ী মূলত দুটি পদ্ধতিতে কাজ সম্পাদন করা হয়। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে শুধু সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নেন, যেখানে বাইরের কারও সুযোগ নেই। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে শর্ত ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের যে কোনো প্রান্তের ঠিকাদার কাজ পেতে পারেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘কাজ পাচ্ছে আওয়ামী ঠিকাদাররা’, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ফখরুলের

আপডেট সময় ০৯:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ডিজিটাল টেন্ডার প্রক্রিয়ার (ই-জিপি) ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ঠিকাদাররা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।

তিনি এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘এ ধরনের কারচুপি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার, যাদের প্রোফাইল কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী, তারা ই-জিপির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাজগুলো সহজে পেয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সেই ঠিকাদাররা নিজেরা মাঠে কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে স্থানীয় অযোগ্য লোকদের কাছে কাজগুলো কয়েক দফায় বিক্রি বা হাতবদল করছেন। দাম কমে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই স্থানীয় পর্যায়ে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী খোদ সংসদ সদস্যরা।

এই অনিয়ম রুখতে এবং স্থানীয় ঠিকাদারদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ঠিকাদারি পদ্ধতিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

সংসদ সদস্যদের এমন উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যা ও ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার পুরোপুরি অবগত আছে। এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা ও কাজের ক্ষতিকর হাতবদল ঠেকাতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সঠিক ও যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা যেন যথাযথভাবে কাজ পান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর মান বজায় থাকে, সেজন্য বিদ্যমান ক্রয় আইন বা পিপিআর কীভাবে রিভিউ বা সংশোধন করা যায়, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই হাতবদলের চক্করে মূল বাজেট কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। সংসদ সদস্যের এমন গুরুতর সব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনিয়ম ও মহামারি রূপ নেওয়া সংকট রুখতে বিদ্যমান ক্রয় আইন বা পিপিআর পর্যালোচনার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, দেশের গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। এসব বহিরাগত ঠিকাদাররা নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা থাকে না। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয় না এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার মতো অভিযোগ ওঠে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন এই কাজগুলো বারবার হাতবদল হয়ে স্থানীয় অযোগ্য ঠিকাদারদের কাছে চলে আসে। এতে করে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা লোপাট হওয়ায় মূল কাজের বাজেট কমে যায়। পরবর্তীতে সেই লোকসান মেটাতে গিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি কাজের গুণগত মান ধ্বংস করছে। অথচ স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা ও জনসাধারণের চাহিদা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির ভয়ে কাজের প্রতি অধিক দায়িত্বশীল হন।

সংসদ সদস্যের এমন নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এলজিইডির আওতায় পিপিএ ২০০৬ এবং পিপিআর অনুযায়ী মূলত দুটি পদ্ধতিতে কাজ সম্পাদন করা হয়। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে শুধু সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নেন, যেখানে বাইরের কারও সুযোগ নেই। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে শর্ত ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের যে কোনো প্রান্তের ঠিকাদার কাজ পেতে পারেন।