দুই শর্তে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০১:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের শাস্তি দিলে এক মাসের মধ্যে আদ-দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স ফিরে পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। জনপ্রিয় শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে রবিবার (২৮ জুন) আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নয়, স্থগিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সরকার আরও পর্যালোচনা করে দেখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এই কথা বলেন।
আমিরুল মোমেনীন মানিক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বহুল আলোচিত আদ্-দ্বীন বিষয়ে আপডেট পেলাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বললেন, লাইসেন্স বাতিল করিনি, কেবল স্থগিত করেছি। তারা যদি এক মাসের মধ্যে ৬ শিশু হত্যার দায়ে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানে আন্তরিক হয়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে পুনরায় চালু হতে পারে হাসপাতাল।’
পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিকল্প স্বাস্থ্যখাতে হামদর্দের কার্যক্রম ও অগ্রযাত্রাকে তিনি অভিনন্দিত করলেন। তুমুল প্রশংসা করলেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদের নতুন বার্তা শোনালেন। নিশ্চয়ই সময়ই বলে দেবে, তিনি কতটা পরিবর্তন করতে পারলেন…।’ হামদর্দ সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এ তথ্য জানান আমিরুল মোমেনীন মানিক।
রবিবার জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সংসদ সদস্য আদ্-দ্বীন নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন দুই থেকে আড়াইশ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করে, ট্রু। উনারা বলেছেন, মাথা ব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? নো, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নাকি অস্বীকার করবেন? করতে পারেন না। আনতে হবে। আমরা কি বসে থাকব? উই ওয়ান্ট টু ব্রিং অল দ্য হসপিটাল আন্ডার ডিসিপ্লিন।’
লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রতিটা জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সাথে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছেন ৭১ সনে। আই অ্যাম আ ফ্রিডম ফাইটার। আই মাস্ট ট্রাই ফর মাই নেশন। আমি আমার প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মালিকের অবহেলার কারণে, উনার একগুঁয়েমির কারণে সে পরিচালনা পর্ষদ চেঞ্জ করে উনার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে। তারপরও আপনারা বলবেন— ওরা ঠিক, আমরা ঠিক না। মাথা তো কাটতে বলিনি, মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছি। আমরা দেখতেছি, সরকার দেখবে। কিন্তু এটা নিয়ে আপনারা দলীয়করণ করবেন না।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, ‘এটি শব্দ চয়নের তারতম্য হতে পারে। তবে লাইসেন্স বাতিলই করা হয়েছে। যতটুকু জেনেছি, তারা আপিল করেছেন। হয়তো প্রক্রিয়াগতভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’
এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপর। কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’



















