ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তিস্তা তীরবর্তী এলাকার শতাধিক মানুষ। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গঙ্গাচড়া উপজেলার লোহানী ইউনিয়নের বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চরসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

তিস্তা নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন জামায়াত এমপিAmardesh_Jamate_Islami
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠান করেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু সামান্য কিছু জায়গা দেখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। নিজের টাকায় রাস্তা করেছি, সেটাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি হারিয়ে আমরা কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়াশোনা করাব?”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা নদী যদি সঠিকভাবে শাসন করা হতো, তাহলে চরাঞ্চলের মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী ইনতাজ আলী বলেন, “আমি সাবেক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। আমার বাড়ি এ পর্যন্ত ২৮ বার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আর কোথায় ঘর বানাব, কোথায় থাকব—তার কোনো উপায় নেই।”

বাগডহরা এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য এলাকায় ধানের আবাদ শুরু হলেও আমরা ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষা করতেই ব্যস্ত। বাঁধের পাশাপাশি বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা এবং ঠিকাদার নিয়োগের কথা থাকলেও বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।

তিনি বলেন, “দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আমরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০৭:১৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তিস্তা তীরবর্তী এলাকার শতাধিক মানুষ। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গঙ্গাচড়া উপজেলার লোহানী ইউনিয়নের বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চরসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

তিস্তা নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন জামায়াত এমপিAmardesh_Jamate_Islami
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠান করেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু সামান্য কিছু জায়গা দেখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। নিজের টাকায় রাস্তা করেছি, সেটাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি হারিয়ে আমরা কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়াশোনা করাব?”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা নদী যদি সঠিকভাবে শাসন করা হতো, তাহলে চরাঞ্চলের মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী ইনতাজ আলী বলেন, “আমি সাবেক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। আমার বাড়ি এ পর্যন্ত ২৮ বার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আর কোথায় ঘর বানাব, কোথায় থাকব—তার কোনো উপায় নেই।”

বাগডহরা এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য এলাকায় ধানের আবাদ শুরু হলেও আমরা ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষা করতেই ব্যস্ত। বাঁধের পাশাপাশি বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা এবং ঠিকাদার নিয়োগের কথা থাকলেও বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।

তিনি বলেন, “দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আমরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা হবে।