ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা ও ভাঙচুর করে বহিষ্কৃত ৩ নেতাকে দলে ফেরাল ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা, শিক্ষকদের হুমকি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কারের ৯১ দিন পর নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে তারা আবারও দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্তক্রমে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতির পদও স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সভাপতির পদ পুনর্বহাল করা হলেও ওই তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ বহাল ছিল। সে সময় তাদের দলীয় সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সবশেষ প্রায় তিন মাস পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা নেই। এখন থেকে তারা দলীয় সব কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ কয়েকজন নেতা শিক্ষকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন অফিসসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র নিতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে খাবার টেবিলে গিয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

আরও পড়ুন: শিগ্‌গিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকেও হুমকি দেওয়া হয়। তার দাবি, এলাকার লোকজন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছিল।

ঘটনার পর কলেজ শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা করে। সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের কাছে অভিযোগ পাঠানো, থানায় মামলা করা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পিআরএল-সংক্রান্ত জরুরি কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। খাবার শুরু করার আগেই একদল হামলাকারী কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে এবং বারান্দার ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তোলে। তারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করা হয় এবং তার জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়।

অধ্যাপক জাকির হোসেনের দাবি, শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছিল। তা না দেওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়েও তারা শঙ্কায় আছেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকরা তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

পরে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাজাহানের মধ্যস্থতায় নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্র-শিক্ষক সংকটের অবসান হয়েছে। এ সময় অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম মো. ছানা উল্যা বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বুকে টেনে নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি শুধরিয়ে সংগঠনকে আরো গতিশীল করার চেষ্টা করবো। দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলেজ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা ও ভাঙচুর করে বহিষ্কৃত ৩ নেতাকে দলে ফেরাল ছাত্রদল

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা, শিক্ষকদের হুমকি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কারের ৯১ দিন পর নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে তারা আবারও দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্তক্রমে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতির পদও স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সভাপতির পদ পুনর্বহাল করা হলেও ওই তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ বহাল ছিল। সে সময় তাদের দলীয় সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সবশেষ প্রায় তিন মাস পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা নেই। এখন থেকে তারা দলীয় সব কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ কয়েকজন নেতা শিক্ষকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন অফিসসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র নিতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে খাবার টেবিলে গিয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

আরও পড়ুন: শিগ্‌গিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকেও হুমকি দেওয়া হয়। তার দাবি, এলাকার লোকজন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছিল।

ঘটনার পর কলেজ শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা করে। সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের কাছে অভিযোগ পাঠানো, থানায় মামলা করা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পিআরএল-সংক্রান্ত জরুরি কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। খাবার শুরু করার আগেই একদল হামলাকারী কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে এবং বারান্দার ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তোলে। তারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করা হয় এবং তার জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়।

অধ্যাপক জাকির হোসেনের দাবি, শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছিল। তা না দেওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়েও তারা শঙ্কায় আছেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকরা তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

পরে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাজাহানের মধ্যস্থতায় নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্র-শিক্ষক সংকটের অবসান হয়েছে। এ সময় অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম মো. ছানা উল্যা বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বুকে টেনে নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি শুধরিয়ে সংগঠনকে আরো গতিশীল করার চেষ্টা করবো। দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।