আহতদের ওপর ফের হামলা করতে লাঠিসোটা নিয়ে হাসপাতালে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা
- আপডেট সময় ০৩:২৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৫ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জকসু, শিবির, ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি সংগঠন ও প্লাটফর্মের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শাখা ছাত্রদলের এ হামলায় জকসু ভিপি-জিএস ও সাংবাদিকসহ আহত অনেকেই চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালে গিয়েও হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। এতে তিনি লেখেন, “হাসপাতালে আমাদের উপর ছাত্রদল হামলা করতে এসেছে।”
তাছাড়াও, ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনসন রোডের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হসপিটালের মূল ফটক দিয়ে লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
জবি শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সঙ্গে হামলায় কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
এদিকে, হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রসায়ন বিভাগ এবং মোঃ মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর, সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ (০৪ আগস্ট ২০২৬) আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্ব থেকেই বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা ও মতবিনিময় করেছে। জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।”
এতে আরও বলা হয়, “অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সার্বিক অগ্রযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সকলের সংযত, দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করা যায় যে, অনুষ্ঠান চলাকালে কতিপয় শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।”
সবশেষে বলা হয়, “মতপ্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বদা সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থী ও সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।”



















