এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় ০৮:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের লাশ পাওয়া গেছে।
রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার লাশ থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। নিহতের বয়স ১৯ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়মের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার পর কক্ষে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কখন মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও পরবর্তী তদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাটি এমন এক দিনে ঘটল, যেদিন গাজী নজরুল ইসলাম পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালতের জামিননামা ঢাকার বিচারিক আদালতে জমা দিয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ওই জামিননামা দাখিল করেন। মামলাটি তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের করা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন। তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত জুলাই মাসে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী। ওই ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এছাড়া রোববারই পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত জামিননামা ঢাকার নিম্ন আদালতে জমা দেন এই সংসদ সদস্য।
নানান বিতর্কের মধ্যেই মরিয়মের মৃত্যুর খবর সামনে এলো। ফলে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা কারণ রয়েছে—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রস্তুত, আলামত সংগ্রহসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়েছে পুলিশ।



















