ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবিতে প্রশাসনের ইন্ধনেই হামলার অভিযোগ, ছাত্রশক্তির ৬ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

গতকালের সংঘর্ষের জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন সংগঠনটির নেতারা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তারা “ছাত্রদলের চেহারায়, ছাত্রলীগ দেখা যায়”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, পূর্বে ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের পোষা ছাত্রলীগ দিয়ে ক্যাম্পাস দখলে রেখেছিল দীর্ঘ ১৭ বছর। একই ভাবে বর্তমান সরকার ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চাইতেছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের অতীত ভুলে যাবেন না। আমরা জুলাই পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কারো দখলে যেতে দিব না। বিশ্ববিদ্যালয় কারোর বাপ দাদার সম্পত্তি না। আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান তাহলে আপনাদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।

ফেরদৌস শেখ বলেন, কালকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল একই সাথে জড়িত। এরপর তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো:

১. গতকালের হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

২. ৭ একর ক্যাম্পাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৪. ক্যাম্পাসে অসৎ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আগামীকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, কালকে প্রশাসনের ইন্ধনে আমাদের উপর ছাত্রদল হামলা করেছে। সেখানের ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ ও সংগঠক জাবির খান, জকসুর জিএস এজিএস সহ ৬০ এর অধিক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন নেতাকর্মী ছাত্রদলের হামলায় আহত হয়েছেন। এই হামলার দায় শুধু ছাত্রদলের একার নয় এর পিছনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও রয়েছে।

তিনি বলেন, কালকে ক্যাম্পাসে জুলাই গনঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল সেখানে ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কিছু দাবি তার কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেখানে আমাদের বাধা দেয়। কিন্ত আমরা প্রশাসনের বাধা না মেনে আমাদের কর্মসূচি পালন করলে প্রশাসন তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদল দিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে।

শাহিন মিয়া আরও বলেন, এই সন্ত্রাসী ছাত্রদল বাহিনী ক্যাম্পাসে যত ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠন আছে সবার উপর হামলা করেছে। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, কালকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বলেছেন এটা আমাদের ছাত্রদলের ক্যম্পাস। আমি তাদের উদ্দেশ্য বলব এই ক্যাম্পাস ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলকে লিখে দেওয়া হয় নাই।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শাহিন মিয়া বলেন, আপনারা ছাত্রলীগ হওয়ার চেষ্টা করতেছেন। যদি ছাত্রলীগ হয়ে যান তাহলে ছাত্রলীগের মতো আপনাদের ও একই অবস্থা হবে.

নিউজটি শেয়ার করুন

জবিতে প্রশাসনের ইন্ধনেই হামলার অভিযোগ, ছাত্রশক্তির ৬ দফা দাবি

আপডেট সময় ০৫:১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

গতকালের সংঘর্ষের জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন সংগঠনটির নেতারা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তারা “ছাত্রদলের চেহারায়, ছাত্রলীগ দেখা যায়”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, পূর্বে ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের পোষা ছাত্রলীগ দিয়ে ক্যাম্পাস দখলে রেখেছিল দীর্ঘ ১৭ বছর। একই ভাবে বর্তমান সরকার ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চাইতেছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের অতীত ভুলে যাবেন না। আমরা জুলাই পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কারো দখলে যেতে দিব না। বিশ্ববিদ্যালয় কারোর বাপ দাদার সম্পত্তি না। আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান তাহলে আপনাদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।

ফেরদৌস শেখ বলেন, কালকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল একই সাথে জড়িত। এরপর তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো:

১. গতকালের হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

২. ৭ একর ক্যাম্পাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৪. ক্যাম্পাসে অসৎ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আগামীকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, কালকে প্রশাসনের ইন্ধনে আমাদের উপর ছাত্রদল হামলা করেছে। সেখানের ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ ও সংগঠক জাবির খান, জকসুর জিএস এজিএস সহ ৬০ এর অধিক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন নেতাকর্মী ছাত্রদলের হামলায় আহত হয়েছেন। এই হামলার দায় শুধু ছাত্রদলের একার নয় এর পিছনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও রয়েছে।

তিনি বলেন, কালকে ক্যাম্পাসে জুলাই গনঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল সেখানে ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কিছু দাবি তার কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেখানে আমাদের বাধা দেয়। কিন্ত আমরা প্রশাসনের বাধা না মেনে আমাদের কর্মসূচি পালন করলে প্রশাসন তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদল দিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে।

শাহিন মিয়া আরও বলেন, এই সন্ত্রাসী ছাত্রদল বাহিনী ক্যাম্পাসে যত ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠন আছে সবার উপর হামলা করেছে। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, কালকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বলেছেন এটা আমাদের ছাত্রদলের ক্যম্পাস। আমি তাদের উদ্দেশ্য বলব এই ক্যাম্পাস ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলকে লিখে দেওয়া হয় নাই।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শাহিন মিয়া বলেন, আপনারা ছাত্রলীগ হওয়ার চেষ্টা করতেছেন। যদি ছাত্রলীগ হয়ে যান তাহলে ছাত্রলীগের মতো আপনাদের ও একই অবস্থা হবে.