ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতকে খুশি করতেই বিএনপি জুলাই জাদুঘরে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়েছে- আবু বাকের মজুমদার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (ঢাবি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে। একইসাথে, আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি রাখা হয়নি।

রবিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আবু বাকের মজুমদার বলেন, “বিগত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় গঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী আমলের নির্মম নির্যাতনের দলিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি জাদুঘর ইস্যুতে বিএনপি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “জাদুঘরে পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে। একই সাথে আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি এখানে রাখা হয়নি। জাদুঘরটি মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে তুলে ধরেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও স্মৃতি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এছাড়া জেনজি (Gen-Z) প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অভিনব নামকরণগুলোকেও এখানে স্থান দেওয়া হয়নি।”

সবশেষে আবু বাকের মজুমদার বলেন, “এই জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে এই জাদুঘরকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে এটিকে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আসল দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্বলিত একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতকে খুশি করতেই বিএনপি জুলাই জাদুঘরে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়েছে- আবু বাকের মজুমদার

আপডেট সময় ০৪:০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (ঢাবি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে। একইসাথে, আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি রাখা হয়নি।

রবিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আবু বাকের মজুমদার বলেন, “বিগত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় গঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী আমলের নির্মম নির্যাতনের দলিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি জাদুঘর ইস্যুতে বিএনপি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “জাদুঘরে পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে ফেলেছে। একই সাথে আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি এখানে রাখা হয়নি। জাদুঘরটি মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে তুলে ধরেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও স্মৃতি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এছাড়া জেনজি (Gen-Z) প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অভিনব নামকরণগুলোকেও এখানে স্থান দেওয়া হয়নি।”

সবশেষে আবু বাকের মজুমদার বলেন, “এই জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে এই জাদুঘরকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে এটিকে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আসল দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্বলিত একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানাচ্ছি।”