ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকের সঙ্গে ‘উধাও’ আইএইচটির ছাত্রদল কর্মী মেহেরুন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক ছাত্রী ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন। বাড়ি যাওয়ার কথা বলে হোস্টেল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। একই সাথে ‘নিখোঁজ’ আছেন এক শিক্ষকও। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উভয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন মিলেছে একই জায়গায়। তারা বর্তমানে বরিশাল সদরের একটি এলাকায় অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক ‘উধাও’ হয়েছেন। প্রতিবেদন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের।

নিখোঁজ ছাত্রীর নাম মেহেরুন নাহার মৌ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই সঙ্গে তিনি শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে অভিযুক্ত অসীম কুমার ঘোষ একই বিভাগের শিক্ষক। তিনি মৌয়ের মাধ্যমে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে আর্থিক সহযোগিতা করতেন।

আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হোস্টেল ছাড়ার জন্য হোস্টেল সুপারের কাছে আবেদন করেন মৌ। আবেদনে কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সময়ে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষও দুই দিনের ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

তবে মৌয়ের বাবা মোসলেম উদ্দিনের অভিযোগ, বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ছুটি নিলেও মৌ সেখানে যায়নি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মেয়ে বাড়িতে আসেনি। সে বাড়িতে এলে আমাকে জানিয়ে আসত।

আইএইচটির একটি সূত্রের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অসীম কুমার ঘোষ ও মেহেরুন নাহার মৌয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন বরিশাল সদর এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান দেখা গেছে।

মৌয়ের ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠী জানিয়েছেন, অসীম কুমারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। উভয়ে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ফোনালাপ করতেন। আইএইচটির শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আগে কেনাকাটার জন্য অসীম মৌকে টাকাও দিয়েছিলেন।

শিক্ষক ও ছাত্রী দুজনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মহিলা হোস্টেলের সুপার আফিফা আফরোজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মহম্মদ ওয়াসি পারভেজ বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় ওই শিক্ষার্থী বাড়ি যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তার বাড়ি থেকে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আর ওই শিক্ষক দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত ওনার ছুটি ছিল। আর আজ বন্ধের দিন। ছুটিতে কে কোথায় গেছে এ নিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষকের সঙ্গে ‘উধাও’ আইএইচটির ছাত্রদল কর্মী মেহেরুন

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক ছাত্রী ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন। বাড়ি যাওয়ার কথা বলে হোস্টেল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। একই সাথে ‘নিখোঁজ’ আছেন এক শিক্ষকও। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উভয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন মিলেছে একই জায়গায়। তারা বর্তমানে বরিশাল সদরের একটি এলাকায় অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক ‘উধাও’ হয়েছেন। প্রতিবেদন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের।

নিখোঁজ ছাত্রীর নাম মেহেরুন নাহার মৌ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই সঙ্গে তিনি শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে অভিযুক্ত অসীম কুমার ঘোষ একই বিভাগের শিক্ষক। তিনি মৌয়ের মাধ্যমে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে আর্থিক সহযোগিতা করতেন।

আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হোস্টেল ছাড়ার জন্য হোস্টেল সুপারের কাছে আবেদন করেন মৌ। আবেদনে কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সময়ে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষও দুই দিনের ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

তবে মৌয়ের বাবা মোসলেম উদ্দিনের অভিযোগ, বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ছুটি নিলেও মৌ সেখানে যায়নি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মেয়ে বাড়িতে আসেনি। সে বাড়িতে এলে আমাকে জানিয়ে আসত।

আইএইচটির একটি সূত্রের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অসীম কুমার ঘোষ ও মেহেরুন নাহার মৌয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন বরিশাল সদর এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান দেখা গেছে।

মৌয়ের ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠী জানিয়েছেন, অসীম কুমারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। উভয়ে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ফোনালাপ করতেন। আইএইচটির শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আগে কেনাকাটার জন্য অসীম মৌকে টাকাও দিয়েছিলেন।

শিক্ষক ও ছাত্রী দুজনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মহিলা হোস্টেলের সুপার আফিফা আফরোজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মহম্মদ ওয়াসি পারভেজ বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় ওই শিক্ষার্থী বাড়ি যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তার বাড়ি থেকে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আর ওই শিক্ষক দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত ওনার ছুটি ছিল। আর আজ বন্ধের দিন। ছুটিতে কে কোথায় গেছে এ নিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।