ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত ৩টায় লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে সার সংকট দেখা দিয়েছে। রাত ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন তারা। সার সংকটে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।

মঙ্গলবার জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবর পেয়ে ভোর ৩টা থেকেই শত শত কৃষক মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সার উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘আমরা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি। ডিলার সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা, অথচ কৃষকের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার বস্তা। কৃষকেরা সার না পেলে এবার ধানের আবাদ খারাপ হবে।’

চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, ‘সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫টায় আসি। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার পাইলাম না। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নেই, তাহলে আমি সার পেলাম না কেন?’

মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি এবং আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এই ইউনিয়নে মাত্র দুজন ডিলার হওয়ায় কৃষকদের চাপ অনেক বেশি।’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোপা আমনের জন্য সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সামনে কৃষকেরা ভুট্টা চাষ করবেন, তাই অনেকে আগে থেকেই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাত ৩টায় লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে সার সংকট দেখা দিয়েছে। রাত ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন তারা। সার সংকটে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।

মঙ্গলবার জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবর পেয়ে ভোর ৩টা থেকেই শত শত কৃষক মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সার উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘আমরা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি। ডিলার সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা, অথচ কৃষকের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার বস্তা। কৃষকেরা সার না পেলে এবার ধানের আবাদ খারাপ হবে।’

চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, ‘সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫টায় আসি। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার পাইলাম না। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নেই, তাহলে আমি সার পেলাম না কেন?’

মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি এবং আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এই ইউনিয়নে মাত্র দুজন ডিলার হওয়ায় কৃষকদের চাপ অনেক বেশি।’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোপা আমনের জন্য সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সামনে কৃষকেরা ভুট্টা চাষ করবেন, তাই অনেকে আগে থেকেই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’