১৯৬৯ সালে নিহত আব্দুল মালেককে ‘মুক্তিযুদ্ধে মানুষ হত্যার নায়ক’ বলে সম্বোধন ছাত্রদল নেতা আমানের
- আপডেট সময় ০৪:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তান আমলে এ অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ছাত্র আব্দুল মালেক। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাবিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেয়ার পর বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের এ নেতা। পরে ১৫ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বামপন্থিদের হাতে প্রাণ হারানো সেই আব্দুল মালেকের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হওয়ার দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ আমান।
তার মতে, ‘১৯৬৯ সালে শিবিরের দুই পক্ষের দ্বন্দে আব্দুল মালেক মারা গিয়েছেন।’ তাছাড়াও, আব্দুল মালেক মুক্তিযুদ্ধের দেড় বছর আগে মারা গেলেও আমান তাকে যুদ্ধে মানুষ হত্যার নায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানোকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে, গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংগ্রহশালা থেকে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক শিক্ষার্থী সেই ছবি অপসারণ করে ফেললে তোলপাড় শুরু হয়।
তাছাড়াও, সংগ্রহশালায় রাখা ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি নিয়েও তর্ক-বিতর্ক চলছে। এমতাবস্থায় গতকাল রাতে একই সময়ে দৈনিক ইনকিলাব, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আমানউল্লাহ আমান আব্দুল মালেককে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন।
দৈনিক ইনকিলাবের ফেসবুক পেজে প্রচারিত আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্য সংবাদ২৪৭ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
“আব্দুল মালেকের ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় কেন আসলো? যিনি ১৯৬৯ সালে শিবিরের দুই পক্ষের দ্বন্দে মারা গিয়েছিল। কিন্তু মালেকের ছবির বিষয়ে এস এম ফরহাদ কোনো ব্যাখ্যা দেননি। যে আব্দুল মালেকরা ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ছিলেন এবং যে ইসলামী ছাত্রসংঘ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশের মানুষ নিধনযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই মানুষ হত্যার অন্যতম নায়ক আব্দুল মালেক; তাকে কোন ক্রাইটেরিয়ায় ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান দেওয়া হয়েছে, এটা আপনি (এসএম ফরহাদ) ক্লিয়ার করবেন।
সেটা যদি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন, আমরা স্পষ্টতই ধরে নেব এবং এটা বাস্তব সত্যও যে, ডাকসুতে তারা বসার পরপরই চব্বিশ ও একাত্তরকে একটি মুখোমুখী জায়গায় নিয়ে এসে একাত্তরের ইতিহাসকে অপ্রাসঙ্গিক করার জন্য যত প্রকার অপচেষ্টা, সেটি সাদ্দাম (শিবির সভাপতি) এবং এসএম ফরহাদদের মাধ্যমে হয়েছে। উনাদেরকে খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদেশ রক্তের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। সেই স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়ার যে অপচেষ্টা উনারা উনাদের মুরুব্বীদের কাছ থেকে শিখে আত্মস্থ-তটস্থ করে যে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা আর সফল হতে দেওয়া হবে না।
উনারা (শিবির) বলেছেন, ছাত্রদল নাকি ইতিহাস জানে না। আমরা ইতিহাস জানি এবং উনাদের থেকে বেশি জানি। উনাদের দাদা আবুল আ’লা মওদূদী, যিনি কিনা পাকিস্তানেরও বিরোধিতা করেছেন। যখন পাকিস্তান হয়ে গিয়েছে তখন তিনি বলেছেন যে, ‘আমি, জিন্নাহ এবং ইকবাল মিলে পাকিস্তান তৈরি করলাম। এই যে- জন্মলগ্ন থেকে আজন্ম মুনাফিকির এক অনন্য প্রতিষ্ঠান জামায়াতে ইসলামী! সেই সময় পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, পরবর্তীতে বলছে যে, থুক্কু ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। পরে আবার তাদের বাপজানেরা, গোলাম আজমরা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশে বিরোধিতা করার পর এখন তারা আবার ১৬ ডিসেম্বর পালন করে, ২৬ মার্চ পালন করে। কি নির্লজ্জ প্রদর্শন! যেটাকে ধারণ করে না, সেটা প্রদর্শন করে!
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গান উনাদের ভালো লাগে না। কিন্তু তারপরও অভিনয় করে। অভিনয় করে সারভাইভ করা যায় না। উনারা যেই মিথ্যার কাহিনী, অপপ্রচার, স্লাডশেমিং, নারীর প্রতি সহিংসতা, জুলুম ও মিথ্যাচার বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এই দুই বছরে করেছেন, এর রেজাল্ট হিসেবে বাংলাদেশে আর কোনোদিনও এই ডাকসুর মতো ছাত্র সংসদের পুনরাবৃত্তি হবে না।”
আব্দুল মালেকের ব্যাপারে তথ্য জানতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে তারা উল্লেখ করেছে, “১৯৬৯ সালের নূর খান শিক্ষা কমিশন প্রেক্ষিত ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেয়ার পর বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। পরে ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রতি বছর ১৫ আগস্টকে “ইসলামী শিক্ষা দিবস” হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।”
“আব্দুল মালেক ১৯৪৭ সালের মে মাসে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের বগুড়া জেলার খোকশাবাড়ি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশের ধুনট উপজেলার স্থানীয়ভাবে বোঘা গ্রামে) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভি মুন্সি মোহাম্মদ আলী এবং মাতা মোছাম্মত সাবিরুন নেছা। ছয় ভাইবোনের পরিবারে তিনি ছিলেন ভাইদের মধ্যে কনিষ্ঠ।”
“তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনি খোকশাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গোঁসাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, যা তার গ্রামের প্রায় চার মাইল দূরে অবস্থিত। ১৯৬৩ সালে তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে রাজশাহী বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ১১তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে রাজশাহী বোর্ডে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে ভর্তি হন।”
“বিদ্যালয় জীবনে আব্দুল মালেক যুক্তফ্রন্ট ও পরবর্তীতে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। কলেজ জীবনেও তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ১৯৬৬ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘতে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে তিনি সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একই বছর জুলাই মাসে ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭-৬৮ সেশনে তিনি পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।”



















