রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে মিডিয়ার ‘আবেগী’ খবর প্রকাশ
‘মবের শিকার’ বলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রীর, শিক্ষক-সহপাঠীদের দাবি তখন দেশেই ছিলেন না
- আপডেট সময় ০৬:০০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
বর্তমানে ছাত্রলীগ বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক পলাতক নেত্রীর ফেসবুক পোস্টের বরাতে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এসব সংবাদকে ‘আবেগী সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়ে এসব ‘আবেগী’ সংবাদ প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে তাকে ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের দাবি যাচাই না করেই তাকে ‘মবের শিকার’ বা ‘মৌলবাদী মবের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রলীগ নেত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশ পালিয়ে যান এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনার্সের ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নেন। তার ওপর কোনো ধরনের মব হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
কী দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাহসিন
১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন এ আর তাহসিন জাহান। সেই পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন।
পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই পুরস্কার গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।’
মবের শিকার হওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি।’
প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মব’কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মতো ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেও রয়েছে।’
বর্তমান পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না? এখন অজুহাতটা কী? ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়। আর দয়া করে আমাদের বলবেন না, ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন।’ কারণ অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।’
‘মবের কোনো প্রমাণ নেই, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন’
তাহসিন জাহান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন , তিনি ক্যাম্পাসে ‘মব’ এর শিকার হয়েছেন এবং তাকে থিসিস জমা ও ভাইভা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের বক্তব্য তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
শিক্ষকরা বলছেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন তাহসিন দেশেই ছিলেন না।
দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, ‘উনি তো ঐ সময়ে ছিলই না। আমরা যখন ভাইভা নিচ্ছি তখন তো দেশেই ছিল না। কানাডাতে ছিল। আমরা ডিপার্টমেন্টে কখনোই দেখি নাই তাকে। ও তো এখানে এভেইল্যাবলও ছিল না। মানে ঐ সময় যখন হয়েছিল ঐ সময় তো সে নেই। দেশেই তো নেই। আমরা এওয়্যার না আরকি। মানে আমরা ডিপার্টমেন্টের কোন কিছু দেখি নাই। বরং ডিপার্টমেন্ট যতটুকু করেছে হি শুড বি গ্রেটফুল অ্যাবাউট দ্যাট। ইউনিভার্সিটি থেকে তো এটা ভাইস চ্যান্সেলরের ওখান থেকে অ্যাপ্রুভ করা হয়েছে যে তাকে অনলাইন মানে পরীক্ষা নেয়া হবে। ডিপার্টমেন্টের রেসপন্স ঐরকম কোনো কিছু হয় নাই। আমরা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ও আমাদের খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল। আমরা চাই যে ও ওখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আসুক। কিন্তু ও এই জিনিসটা এখানে আনলো আমরা ভাবতেও পারি নাই। তো আমার মনে হয় দিস ইজ ইরেলেভেন্ট। বরং ডিপার্টমেন্ট তাকে সাপোর্ট দিয়েছে এবং ইউনিভার্সিটি তাকে সাপোর্ট দিয়েছে।’
ডেভলাপমেন্ট স্টাডিজের বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাঈম সুলতানা বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো ধরনের প্রবলেম আমি দেখি নাই। ওনার সাথে মব হওয়ার কথা আমরা জানি না উনি কানাডা থেকে আমাদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, তিনি পরীক্ষা দিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশাল পারমিশনে ওনাকে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়েছি। ভিসি এবং কন্ট্রোলার স্যারের স্পেশাল পারমিশন নিয়ে ওনার অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উনি তো ডিপার্টমেন্টে ছিলেন না, ক্যাম্পাসেও ছিলেন না। উনি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, আসতে ভয় পাচ্ছে আমরা ডিপার্টমেন্ট থেকে ওনাকে সাপোর্ট দিয়েছি।’
তাহসিনের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মবের শিকার হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাঈম সুলতানা বলেন, ‘না, আমি এগুলো দেখি নাই। এমন কিছু ঘটেছে শুনিও নাই।’
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি কানাডা থেকে অনলাইনে ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করলে সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়।
ছাত্রলীগের পদধারী হওয়ায় সহপাঠীরা বয়কট করেছিল
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যায়নরত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতানেত্রীদেরকে একাডেমিকভাবে বৈঠকের ডাক ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। মূলত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা ও হল থেকে বের করে দেয়ার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতাদের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। তাহসীন জাহান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যেক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক।
তাহসীনের অন্তত দুইজন সহপাঠী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের নেত্রী হওয়ার কারণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় তার সাথে বসে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেবে না। এটা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর তাহসীন তার পরিবারসহ কানাডায় চলে যান বলে এসব শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।
দ্য ডিসেন্টকে তাহসিনের একজন সহপাঠী বলেন, ‘ওরে যেহেতু সামাজিকভাবে বয়কট করা হইছে, তো আমাদের ব্যাচ থেকে একটা ডিসিশন আসলো যে ওর ভাইভা হচ্ছে আলাদাভাবে নিবে। এমন না যে আমরা বা ডিপার্টমেন্ট তার কোনো কিছু আটকায় দিছে। জাস্ট এইটুকুই ঘটনা।’
অপর এক জুনিয়র শিক্ষার্থীও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টে কোনো মব হয়নি। উনার পদের জন্য উনাকে বয়কট করা হইছে।’
তাহসিনের সহপাঠী পদ্ম আলম (Poddo Alam) একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তাদের ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের পদপ্রাপ্ত নেত্রী হওয়ায় তাহসিনের সঙ্গে তারা পরীক্ষায় বসবেন না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে ঠিক কী মব তৈরি করেছি? কোথায়? কখন? কীভাবে? আমি এ আর তাহসিন জাহানের কাছে এর একটি নির্দিষ্ট প্রমাণ চাই।’
ক্যাথলিন ধর আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তাহসিন যে মব হামলার কথা বলছেন, তা কখনোই ঘটেনি, কারণ তিনি তখন কানাডায় অবস্থান করছিলেন।’
আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সিআরআই (CRI) এর সাথে সম্পৃক্ততা
তাহসিন জাহানের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ, দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের বায়োতে তিনি লিখেছেন, ‘I also serve as a student politician of the former ruling party of Bangladesh (comprised of 5 million youth activists) where I’ve advised policymakers and contributed to both domestic and international government initiatives.’
অর্থাৎ, তিনি সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র-রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
কালবেলার প্রতিবেদনে তাকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিডিনিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআরআই আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন।
২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাহসিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে তাঁকে সিআরআই-এর লোগো সম্বলিত ব্যাকড্রপে এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যায়।
ক্যাপশনে তিনি লেখেন, Had a wonderful evening at Let’s Talk with Sheikh Hasina organized by CRI!
নিজের ওয়েবসাইটে তাহসীন তাকে ‘দ্য কনফ্লুয়েন্স’ নামক পলিসি ব্লগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রকাশক ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।
শাহ আলী ফরহাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং সিআরআইএর দীর্ঘদিনের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ও কনসালটেন্ট ছিলেন।
৭ নভেম্বর তাহসিন ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন: “The Confluence team had an amazing evening with the policymakers from Bangladesh Government, National Parliament, and CRI.”
ছবিতে সিআরআই এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।
মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাহসিনের ছাত্রলীগ পরিচয় গায়েব
তাহসিন জাহানের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি নিয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি জাতীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের শিরোনামে বা ভেতরের লেখায় তার ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
এই প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা ও ইংরেজি), বিডিনিউজ (বাংলা ও ইংরেজি), কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এশিয়া পোস্ট, আগামীর সময়, সিটিজেনস ভয়েস বিডি, রোকেয়া কালেকটিভ এবং কালবেলা।
দ্য ডেইলি স্টার শিরোনামে লিখেছে, ‘Thousands of students’ lives were ruined’: DU topper refuses Dean’s Award’ এবং ‘হাজারো শিক্ষার্থী কেন ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না,’ প্রশ্ন তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীর’।
বিডিনিউজ শিরোনামে লিখেছে, ‘DU student rejects Dean’s Award protesting administration’s ‘support for fundamentalist mob’ এবং ‘মৌলবাদী মবে ঢাবি প্রশাসনের সমর্থন’, প্রতিবাদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নিলেন না শিক্ষার্থী’।
কালের কণ্ঠ: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন’।
জাগো নিউজ ২৪: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান’।
এশিয়া পোস্ট: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন তাহসিন’।
আগামীর সময়: ‘ঢাবি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান মবের শিকার তাহসিনের’।
রোকেয়া কালেকটিভ: ‘যে কারণে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবির প্রথম শ্রেণিতে প্রথম তাহসিন জাহান’।
দৈনিক ইত্তেফাক: ‘প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ঢাবি শিক্ষার্থীর’।
১৩টি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালবেলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেদনের ভেতরেও তাহসিনের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা সিআরআই এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
তাহসিন তার পোস্টে নিজের যে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ এর কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, সেই পরিচয়টি আসলে কী তা নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমই সামান্যতম অনুসন্ধান চালায়নি। তারা কেবল তাহসিনের বক্তব্যটি হুবহু কপি-পেস্ট করে তাকে একজন সাধারণ ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
শুধুমাত্র কালবেলা তাদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী, বললেন আমার ওপর মব করা হয়েছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে তাহসিনকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তাহসিনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি
তাহসিন জাহানের ‘মব হামলা’, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ থেকে বাধা এবং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ জানতে দ্য ডিসেন্ট-এর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে তিনি কোন সময়, কোথায় এবং কীভাবে মব হামলার শিকার হয়েছিলেন এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাহসিন জাহানের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



















