ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ষণের বিচার নেই, বিচার শুধু প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিলে’

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

‘‎রাষ্ট্রে ধর্ষণ, গণহত্যা, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিলে বিচার হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের তিনি এ মন্তব্য করেন।

‎​সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রে কোনো ধর্ষণের বিচার হয় না, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, জুলাই গণহত্যার বিচার হয় না, পিলখানা হত্যার বিচার হয় না, শাপলা গণহত্যার বিচার হয় না। এই রাষ্ট্রে শুধুমাত্র একটা বিচারিক ব্যবস্থাই টিকে আছে, সেটা হচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীকে কেউ কোনো গালি দিল কি না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গালি দেওয়ার কারণে এখন মানহানি মামলার বদলে সন্ত্রাসী মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা আইনের অপব্যবহার।

‎তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে ৭ মাস ১০ দিন। বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবথেকে নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এরপরও মনে হচ্ছে সরকার এখনও হানিমুন মুড থেকে বের হতে পারছে না। পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎শিশু নিখোঁজ ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ আমাদের কাছে রয়েছে। ঝোপেঝাড়ে তাদের লাশগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে অমানবিক অবস্থায়। এছাড়া প্রত্যেকটি এলাকাতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র এক মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‎​
‎দেশে ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্ষণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এক ব্যক্তির মেয়েকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। বিচার না পেয়ে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে ওই মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ সে জানে এই রাষ্ট্রে কোনো বিচার পাওয়া যায় না।
‎​
‎তিনি আরও বলেন, জনগণকে আইন দিয়ে বা জেলে পুরে মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো ভরিয়েও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। সুতরাং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।​

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ধর্ষণের বিচার নেই, বিচার শুধু প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিলে’

আপডেট সময় ০৫:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘‎রাষ্ট্রে ধর্ষণ, গণহত্যা, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিলে বিচার হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের তিনি এ মন্তব্য করেন।

‎​সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রে কোনো ধর্ষণের বিচার হয় না, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, জুলাই গণহত্যার বিচার হয় না, পিলখানা হত্যার বিচার হয় না, শাপলা গণহত্যার বিচার হয় না। এই রাষ্ট্রে শুধুমাত্র একটা বিচারিক ব্যবস্থাই টিকে আছে, সেটা হচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীকে কেউ কোনো গালি দিল কি না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গালি দেওয়ার কারণে এখন মানহানি মামলার বদলে সন্ত্রাসী মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা আইনের অপব্যবহার।

‎তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে ৭ মাস ১০ দিন। বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবথেকে নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এরপরও মনে হচ্ছে সরকার এখনও হানিমুন মুড থেকে বের হতে পারছে না। পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎শিশু নিখোঁজ ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ আমাদের কাছে রয়েছে। ঝোপেঝাড়ে তাদের লাশগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে অমানবিক অবস্থায়। এছাড়া প্রত্যেকটি এলাকাতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র এক মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‎​
‎দেশে ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্ষণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এক ব্যক্তির মেয়েকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। বিচার না পেয়ে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে ওই মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ সে জানে এই রাষ্ট্রে কোনো বিচার পাওয়া যায় না।
‎​
‎তিনি আরও বলেন, জনগণকে আইন দিয়ে বা জেলে পুরে মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো ভরিয়েও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। সুতরাং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।​