ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুদের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের পাশাপাশি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত আমির আলী উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের মছন্দর আলীর ছেলে। তিনি দোহালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।

গত ২ অক্টোবর দোহালিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সুমী রানী নাথ। তিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ঘটনার পর আইনি সহায়তা চেয়ে দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে সুমী রানী নাথ অভিযোগ করেন, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে আমির আলীর কাছ থেকে সাপ্তাহিক সুদের ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। ঋণ নেওয়ার সময় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের চেকও রাখা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে থাকেন তিনি।

সুমী রানীর দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি এবং ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমির আলীর পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। এরপর নিজের কাছে থাকা চেকবই ফেরত চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু বাজারে সুমী রানীর পরিচালিত হোমিওপ্যাথি ফার্মেসিতে গিয়ে আমির আলী গালিগালাজ ও অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ঘরের মালিক তাকে সেখান থেকে বের করে দিলে বাজারের অন্য একটি স্থানে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন সুমী রানী।

লিখিত অভিযোগে সুমী রানী আরও বলেন, গত ২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অসুস্থতার কারণে তিনি নিজের ফার্মেসির পেছনের একটি কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় আমির আলী পেছনের দরজা দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তার মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে পরনের কাপড় খুলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আমির আলী সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিষয়টি বাজারের ব্যবসায়ীদের জানানো হয়। পরে ৫ অক্টোবর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এ বিষয়ে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে আমির আলী উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত আবেদন করেন সুমী রানী।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের, স্বামী ও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বাজার কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসাইন বলেন, শুক্রবার সুমী রানীর দোকানে এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে তিনি এবং বাজারে থাকা আরও কয়েকজন সেখানে যান। পরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা আলোচনায় বসেন। ওইদিন সন্ধ্যায় সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, উভয় পক্ষ সোমবারের সালিশে উপস্থিত থাকবেন। তবে সোমবার সুমী রানী উপস্থিত হলেও আমির আলী সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান দেলোয়ার হোসাইন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতার

আপডেট সময় ১০:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুদের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের পাশাপাশি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত আমির আলী উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের মছন্দর আলীর ছেলে। তিনি দোহালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।

গত ২ অক্টোবর দোহালিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সুমী রানী নাথ। তিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ঘটনার পর আইনি সহায়তা চেয়ে দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে সুমী রানী নাথ অভিযোগ করেন, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে আমির আলীর কাছ থেকে সাপ্তাহিক সুদের ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। ঋণ নেওয়ার সময় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের চেকও রাখা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে থাকেন তিনি।

সুমী রানীর দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি এবং ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমির আলীর পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। এরপর নিজের কাছে থাকা চেকবই ফেরত চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু বাজারে সুমী রানীর পরিচালিত হোমিওপ্যাথি ফার্মেসিতে গিয়ে আমির আলী গালিগালাজ ও অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ঘরের মালিক তাকে সেখান থেকে বের করে দিলে বাজারের অন্য একটি স্থানে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন সুমী রানী।

লিখিত অভিযোগে সুমী রানী আরও বলেন, গত ২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অসুস্থতার কারণে তিনি নিজের ফার্মেসির পেছনের একটি কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় আমির আলী পেছনের দরজা দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তার মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে পরনের কাপড় খুলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আমির আলী সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিষয়টি বাজারের ব্যবসায়ীদের জানানো হয়। পরে ৫ অক্টোবর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এ বিষয়ে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে আমির আলী উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত আবেদন করেন সুমী রানী।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের, স্বামী ও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বাজার কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসাইন বলেন, শুক্রবার সুমী রানীর দোকানে এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে তিনি এবং বাজারে থাকা আরও কয়েকজন সেখানে যান। পরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা আলোচনায় বসেন। ওইদিন সন্ধ্যায় সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, উভয় পক্ষ সোমবারের সালিশে উপস্থিত থাকবেন। তবে সোমবার সুমী রানী উপস্থিত হলেও আমির আলী সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান দেলোয়ার হোসাইন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।