আহত মেহরাজ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে কর্মরত।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় ০১:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর জড়ো হওয়া লোকজনের হামলায় এক বন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের এভিয়ারি পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মেহরাজ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে কর্মরত।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্কের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অন্তত ২০০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে মেহরাজের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মেহরাজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইকো পার্কের পিকনিক স্পট ও গাড়ি রাখার জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় বাধার মুখে পড়ে পুরো অভিযান শেষ না করেই রেঞ্জ অফিসে ফিরে যান তারা।
তার অভিযোগ, উচ্ছেদের জের ধরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একদল লোক কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে ব্যারিকেড দেয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু ঘটনাস্থলে যান এবং তাকে সেখানে যেতে বলেন।
মেহরাজ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গেলে সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা আমার ওপর হামলা চালায়। তিনি অনেক চেষ্টা করেও আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।’
হামলায় তার কপাল, ডান চোখের নিচে, মাথা ও কাঁধে আঘাত লাগে বলে জানান তিনি।
মেহরাজের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে জবরদখলকারী হিসেবে পরিচিত আনোয়ার, আহমাদুল হক, মোহাম্মদ হোসেন ও জাহেদসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। জাহেদ ছাড়া বাকি তিনজন বনভূমি দখলের একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন দ্ডেইলি স্টারকে বলেন, বন বিভাগের লোকজন এক বিধবা নারী ও এক হুজুরের ঘর ভেঙে দিয়েছিলেন। তারা এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এর প্রতিবাদ করেছেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদ বলেন, বন বিভাগের লোকজন টাকা না দেওয়ায় ঘরগুলো উচ্ছেদ করেছেন বলে ওই দুজন তাদের জানিয়েছিলেন। এরপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। উচ্ছেদের পর তারা আরও লোকজন জড়ো করে সড়কে ব্যারিকেড দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা বন কর্মকর্তাকে মারধর করে।
তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা আহত হওয়ায় বন বিভাগকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এভিয়ারি পার্কে লুটপাট চালিয়ে হরিণ, পাখিসহ কয়েকশ বন্যপ্রাণী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় পার্কে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ক্যাবল কারও ভাঙচুর করা হয়।























