ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, এমপিকে চ্যালেঞ্জ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ধামরাইয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি তমিজ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে মারামারি করার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা।

শুক্রবার গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে চেয়ারম্যান এমপি তমিজ উদ্দিনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, অনুসারীদের দিয়ে হামলা না চালিয়ে সাহস থাকলে সশরীরে আসেন। তখন দুইজনের মধ্যে কার কতটুকু শক্তি পরীক্ষা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে এমপির গ্রুপ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোটরসাইকেল মহড়া দেন।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যান রোমার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধর, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান রোমার অভিযোগ, সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের অনুসারীরা তাঁর মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবু, কর্মী বাবুল সরদার ও শরীফসহ ৬-৭ জনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন। বাবুল সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের গ্রুপ করি না। আমি মুরাদের গ্রুপ করেছি, মুরাদের পেছনে শ্রম দিয়েছি, নির্বাচনে তার মনোনয়নের জন্য কাজ করেছি। যে কারণে তমিজ সাহেব তার লোকজনকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়া বের করেছিলেন। মহড়াটি এ কে এইচ কারখানার সামনে পৌঁছালে রোমার লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে শরীফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ধামরাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, এমপিকে চ্যালেঞ্জ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ১২:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি তমিজ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে মারামারি করার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা।

শুক্রবার গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে চেয়ারম্যান এমপি তমিজ উদ্দিনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, অনুসারীদের দিয়ে হামলা না চালিয়ে সাহস থাকলে সশরীরে আসেন। তখন দুইজনের মধ্যে কার কতটুকু শক্তি পরীক্ষা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে এমপির গ্রুপ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোটরসাইকেল মহড়া দেন।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যান রোমার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধর, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান রোমার অভিযোগ, সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের অনুসারীরা তাঁর মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবু, কর্মী বাবুল সরদার ও শরীফসহ ৬-৭ জনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন। বাবুল সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের গ্রুপ করি না। আমি মুরাদের গ্রুপ করেছি, মুরাদের পেছনে শ্রম দিয়েছি, নির্বাচনে তার মনোনয়নের জন্য কাজ করেছি। যে কারণে তমিজ সাহেব তার লোকজনকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়া বের করেছিলেন। মহড়াটি এ কে এইচ কারখানার সামনে পৌঁছালে রোমার লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে শরীফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।