যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ সহপাঠীর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় ১২:১৮:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
গোসল করাকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত তানভীর হক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি গোসলের জন্য ওয়াশরুমে ঢুকে একটি বালতি দেখতে পান। তিনি সেই বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক নামের এক শিক্ষার্থী এসে দরজায় বারবার টোকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বের হলে তানভীরের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি রুমে চলে যাওয়ার পর তানভীর তাঁর রুমে ঢুকে নানাভাবে হুমকি দেন। তাঁকে বলতে থাকেন, ‘আমি আগের মতো নেই, যদি আগের মতো থাকতাম, তাহলে তোকে এখন মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতাম।’
ঘটনার পর বিকেলে তাঁর বন্ধুরা বিষয়টি মীমাংসা করতে তাঁকে চায়ের দোকানে নিয়ে যান। বন্ধুরা তাঁকে বলেন, বিষয়টি মীমাংসা না করলে পরে ঝামেলা হতে পারে। সেখানে গেলে উপস্থিত তানভীর, কাব্য ও অস্কার তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তানভীর তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিয়ে তাঁকে বসার টেবিল থেকে ফেলে দেন। এরপর কী হয়েছে, তা আর বলতে পারেননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। পরে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে মেডিকেলে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর কানের বর্তমান অবস্থা অবস্থা সম্পর্কে চীফ মেডিকেল অফিসার ডা: দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সম্ভবত পর্দা ছিদ্র হয়ে গেছে। তিনি এ বিষয়ে সুপারিশ করে দিয়েছেন। পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পরবর্তী অবস্থা জানা যাবে।
অভিযুক্ত ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বের করে দিয়ে জুয়েল গোসলে যান। দরজায় নক করে কারণ জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। ঘটনাটি তাঁর কাছে খারাপ লাগে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পরে তাঁর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় বসেন। সঙ্গে তাঁর বন্ধুরা এবং জুয়েলেরও কিছু বন্ধু ছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন। বিষয়টি গুরুতর দেখে তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিকভাবে জ্বর-সর্দির কিছু ওষুধ দেন। তাঁর কানে কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন।
ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, এটা আমাদের ব্যাচমেটদের বিষয়। বিষয়টাকে আমরা কথা বলার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এজন্য আমরা সবাই একসঙ্গে বসি। কিন্তু সেখানে কথা বলার সময় হক তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারে। এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পরে আমরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাঁর এক্স-রে করানো হয়েছে। এক্স-রের রিপোর্ট কী আসছে, সেটা আমার জানা নেই।
শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী ফার্মেসি বিভাগের জুয়েল আল ইমরান হলের ৪২৫ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। গোসলের সময় অপর শিক্ষার্থী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তানভীর হকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তারপর তারা হলের বাইরে আমতলায় গিয়ে বিষয়টা সমাধানের চেষ্টা করে। কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হাত দিয়ে জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেয়। প্রাথমিকভাবে পুরো ঘটনা লিখিত আকারে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলেছি। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, আজ চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে আমি বিষয়টা জানতে পারি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগও পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষার্থী নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।




















