মিশরীয় সাংবাদিক আবদু ফায়েদ
‘হে আরব বিশ্ব, কীভাবে ঘুমাও, যখন ফিলিস্তিনি প্রবীণ মানুষটি ক্ষুধার্ত, এই লজ্জা তোমাদের কবর পর্যন্ত তাড়া করবে’
- আপডেট সময় ০৩:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
‘হে আরব ও মুসলিম বিশ্ব, কীভাবে ঘুমাও, যখন তোমাদের ফিলিস্তিনি প্রবীণ মানুষটি ক্ষুধার্ত, এই লজ্জা তোমাদের কবর পর্যন্ত তাড়া করব’; ফিলিস্তিনের গাজার প্রবীণ বাসিন্দা ও শিক্ষক আবদুল্লাহ আইয়ুবের জীবনযুদ্ধের তথ্য তুলে ধরে এমন মন্তব্য করেছেন মিশরীয় সাংবাদিক ও অনলাইন কমেন্টটর আবদু ফায়েদ।
তিনি বলেছেন, ‘৭৭ বছর বয়সে সাধারণ পোশাকে নিজের পরিচয় আড়াল করে হাতে একটি থালা নিয়ে ত্রাণকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ান আবদুল্লাহ। উদ্দেশ্য, সামান্য কিছু খাবার সংগ্রহ করা। যে বয়সে মানুষের নিশ্চিন্তে থাকার কথা, জীবনের অর্জন ও সঞ্চয় নিয়ে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সে তাকে কাটাতে হচ্ছে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে।’
গতকাল শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
অনলাইন কমেন্টটর আবদু ফায়েদ লেখেন, “একসময় ছিলেন নিজ সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি। মিসর থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ফিরে এসেছিলেন নিজের জন্মভূমি গাজায়। শিক্ষকতা করেছেন, জ্ঞান ছড়িয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে সঞ্চয় করেছিলেন অর্থ, গড়ে তুলেছিলেন নিজের একটি বাড়ি। কিন্তু যুদ্ধের নির্মমতায় মুহূর্তেই হারিয়েছেন সবকিছু। ৭৭ বছর বয়সে সেই শিক্ষক ও প্রকৌশলীকে এখন একমুঠো খাবারের আশায় দাঁড়াতে হচ্ছে ত্রাণকেন্দ্রের লাইনে।”
তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনের গাজার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল্লাহ আইয়ুবের জীবনযুদ্ধের এই করুণ চিত্র যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ। একসময় নিজের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটাতেন আবদুল্লাহ। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। হারান জীবনের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও নিরাপদ আশ্রয়। বাধ্য হয়ে উদ্বাস্তু জীবন বেছে নিতে হয় তাকে। ঠাঁই হয় তাঁবুতে। একসময় যিনি ছিলেন সমাজের সম্মানিত শিক্ষক ও প্রকৌশলী, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাকেই এখন সামান্য খাবারের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।”
























