শাকসু নির্বাচন ২০ জানুয়ারি, ২৩ পদে লড়ছেন ৯৭ প্রার্থী
- আপডেট সময় ০৬:১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসুর পর এবার আগামী ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (শাকসু)। এতে ২৩ টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৯৭ জন প্রার্থী।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, শাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। ২৩টি পদে ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৯ হাজার ১২৪ জন। শাহপরান হলে ২ হাজার ২২০, বিজয়-২৪ হলে ২ হাজার ১৫৬, সৈয়দ মুজতবা আলী হলে ১ হাজার ৪২২ জন ভোটার আছেন। ছাত্রীদের আয়েশা সিদ্দীকা হলে ১ হাজার ৩৪৪, বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলে ১ হাজার ৩০৬ এবং ফাতিমা তুজ জোহরা হলে ৬৭৬ জন ভোটার আছেন।
আগামী ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। প্রায় ২৯ বছর পর শাকসু নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্পাস জমজমাট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, শাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ ও বাম সমর্থিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ এই তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে লড়ছে ছাত্র সংগঠনগুলো।
এর বাইরে বেশ কয়েকটি পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে মূল লড়াই হবে শিবির ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে।
শাকসুতে শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল জয়লাভ করলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ডাবল হ্যাটট্রিক করবে ইসলামী ছাত্রশিবির। ফলে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি সংগঠনটির সামনে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন ছুটি শেষে গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। শীতের ছুটিতে প্রার্থীরা অনলাইনে তাদের প্রচারণা চালু রাখলেও পুরোদমে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা শুরু করেছেন ছুটির পর। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির পর গত রোববার থেকে ক্যাম্পাসে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন তিন প্যানেলের প্রার্থীরা। গত এক সপ্তাহ ব্যস্ত সময় পার করেছেন ভিপি, জিএস, এজিএসহ অন্য প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর, ফুডকোর্ট, গিফারি চত্বর, অর্জুনতলা, বি ও ই বিল্ডিংয়ের টংয়ের এলাকাসহ ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন প্যানেলের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রার্থীরা নতুন উদ্যমে প্রচারপত্র বিলি করছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যালট নম্বর ও পরিচিতি। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনেও ক্লাস শেষে, বিরতিতে বা ক্যাম্পাসে আড্ডার ফাঁকে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছেন প্রার্থীরা। শেয়ার করছেন নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার।
এছাড়া ছুটির দিনেও আবাসিক হল ও মেসে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
শাকসুতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল (২৩টি পদে) দিয়েছে ইসলামি ছাত্রশিবির। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত সমন্বয়ক দেলোয়ার হোসেন শিশির, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শাবিপ্রবি শিবিরের অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মোহাম্মদ শাকিল। এছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুব হাসান অনু, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ বিন কেফায়েত, সাহিত্য ও বার্ষিকী সম্পাদক তামিম রিজওয়ান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাবের বিন আব্দুল খালেক, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ইবরাহিম বিন ইসলাম, ধর্ম ও সম্প্রীতিবিষয়ক সম্পাদক আসিফ ভূইয়া, সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ শিকদার, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক আমিনা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আলী আব্বাস শাহীন, শিক্ষা গবেষণা ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক শামছুল শায়ান, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সামাদ শান্ত, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান শিবলু, পরিবহন সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম সৌরভ, ক্যাফেটোরিয়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক আসিফুর রহমান, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য সুমাইয়া নাভা, আদিবা সালেহা, শুয়াইব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান ও জামিলুর রেজা সৈকত।
অপরদিকে ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ নামে ২২টি পদে প্যানেল দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই প্যানেলে ভিপি পদে মুস্তাকিম বিল্লাহ, জিএস পদে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ও এজিএস পদে আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান; সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিলন; সাহিত্য ও বার্ষিকী সম্পাদক আসাদুল হক; সাংস্কৃতিক সম্পাদক অমিত মালাকার; ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক তাজুল ইসলাম; সমাজসেবা সম্পাদক রুবেল মিয়া রাব্বি; ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা রিয়া; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মোস্তফা আহমেদ; শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মুনতাসির মামুন শুভ; তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তারেক রহমান; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক, পরিবহন সম্পাদক নাসিমুল হুদা; ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক সোহানুর রহমান এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে খালিদ সাইফুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে হৃদয় মিয়া, হৃদয় আহসান, আফফান, অন্তু গোপ ও মারুফ সাকলাইন লড়ছেন।
এদিকে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ নামে ১৩টি পদে আংশিক প্যানেল দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো।
‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলে ভিপি পদে মুহয়ী শারদ, জিএস পদে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিফাত, এজিএস পদে হাফিজুর ইসলাম হাফিজ নির্বাচনে লড়ছেন। এছাড়া সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো: মাসুদ শাহরিয়ার, সমাজসেবা সম্পাদক পদে তাকভীর আহাম্মদ, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে সুইটি আক্তার, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে মো: হানিফ হাসান নিশান, শিক্ষা-গবেষণা ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টবিষয়ক সম্পাদক পদে মো: রবিউল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ফাহমিদ হাসান তুহিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মো: আরমান হোসেন ইমন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে তাছমিমা মাহফুজ জেরিন, পরিবহন সম্পাদক পদে মো: জুবায়ের হোসেন সায়েম, কার্যকরী সদস্য পদে রাকিব হাসান, আকাশ দাস, নাজমুস সাকিব, তাহমিদুর রহমান তুহিন ও মো: এহসানুল হক মিলন নির্বাচন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী সামিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে গণরুম কালচারের ঠাঁই নেই। কিন্তু এখনো একটি সংগঠন পুরোনো ধ্যান-ধারণায় পড়ে আছে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে পছন্দ করার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘যে প্যানেল ক্যাম্পাসে পড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ করতে পারবে, সেই প্যানেলকে ভোট দেবো। সেক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় আমি ছাত্রশিবিরকে এগিয়ে রাখছি।’
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হোসাইন আহমদ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না। যাদের প্রাণের বিনিময়ে নতুন একটা ক্যাম্পাস পেয়েছি। সেই জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখছি।’
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সন্ত্রাসমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই কাজ শুরু করেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের থেকে প্রায় ৯০টির বেশি পরামর্শ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো ইশতেহার ঘোষণা করিনি। আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে বাস্তবিক সমস্যা সমাধান নিয়ে দাবি-দাওয়া শুনছি ও নোট করছি। শিক্ষার্থীদের সেই পরামর্শ নোট আকারে আছে।’
‘যেগুলো ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা, সেগুলো ইশতেহারে যুক্ত করবো,’ বলেন তিনি।
ছাত্রদল সর্মথিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, ’আমরা একটু ইউনিক সিস্টেমে এগোচ্ছি। আমরা প্রাথমিকভাবে ব্যালট নিয়ে ভোট চাচ্ছি না, শিক্ষার্থীদের চাওয়া ও দাবি শুনছি। এরপর সেগুলো বিচার-বিবেচনা করে, আমরা যদি সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারি, তখন আমরা ভোট চাইব। এভাবেই সিকুয়েন্স অনুযায়ী এগোচ্ছি।’
‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী হাফিজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। আমরা শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে আমাদের ইশতেহার পৌঁছে দিচ্ছি, একই সাথে মনোযোগ দিয়ে শুনছি, ক্যাম্পাসজীবনের নানান সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা।’
তিনি আরো বলেন, ‘শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আমাদের ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরো বেগবান করবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত ও বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করবে এমন বিশ্বাস আমাদের দৃঢ়।’
শাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। আমরা সে মোতাবেক আগাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেবে।’



















