ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৪০ টাকার ময়লা বিলে ১৫০ টাকা চাঁদা, প্রতিবাদ করায় জামায়াত এমপির উপর হামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৬৪ বার পড়া হয়েছে

সিটি কর্পোরেশনের ময়লা বিলেও চলছে চাঁদাবাজি। প্রতিবাদ করাতে স্বয়ং সংসদ সদস্যের ওপর হামলা করেছেন সুবিধাভোগীরা। ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার ঘটনায় সঙ্গে থাকা এক তরুণ আহত হয়েছেন।

আজ রবিবার (৮ মার্চ) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এমন অভিযোগ করেছেন আব্দুল বাতেন। এ সময় আহত তরুণ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এমপি আব্দুল বাতেন বলেন, আমি ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। নির্বাচনের পর থেকে লক্ষ্য করছি, আমি যেখানেই যাচ্ছি, আমার প্রতিপক্ষ দল বা পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি আমি মসজিদে গেলেও সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বাইরে যেকোনো কর্মসূচিতে গেলেও একই ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আগের মতোই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি—মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং দায়িত্ব পালনে তাদের সহযোগিতা চাইছি। কিন্তু প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই অযৌক্তিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আজ নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপনগর থানার চলন্তিকা মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত মল্লিকা মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে এসেছিলাম। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সালাম দেওয়ার পরই আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়। মসজিদের ভেতরে হঠাৎ করেই একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। আমার মনে হয়েছে, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এখানে এসেছিল এবং আমাকে কথা বলতে না দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এখনও আমি মসজিদের ভেতরেই অবস্থান করছি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সঙ্গীকে মারধর করা হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন। আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একাধিক মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এমপি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আমি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জনগণের কাছে যাওয়াটা আমার দায়িত্ব। আমি মানুষের কাছে যাব, তাদের সমস্যা-অভিযোগ শুনব— এটাই স্বাভাবিক। আমরা এখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে ময়লা অপসারণের নামে ১০০, ১২০ বা ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়, অথচ যারা ময়লা পরিবহন করেন তারা পান মাত্র ৪০ টাকা। বাকি অর্থ স্থানীয় কিছু নেতা ভোগ করেন। এই বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। আমি এর প্রতিকার চাই এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, আজ আমার সঙ্গে পুলিশও ছিল, কিন্তু তাদের আচরণ সন্তোষজনক ছিল না। বরং তারা আমার সঙ্গীদেরই নিবৃত করার চেষ্টা করেছে। এতে হামলাকারীরা আরও সুযোগ পেয়েছে। আমার পাশে থাকা এক তরুণকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে, তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এটি কোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকেও ক্যামেরা, ঘড়ি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকেও মারধর করা হয়েছে। আমি যেকোনো মসজিদে যেতে পারি, মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলতে পারি— এটি আমার অধিকার। আমি প্রতিদিনই এমন গণসংযোগ করছি এবং অন্য কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। এখানে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটি আমি বুঝতে পারছি না। এমনকি একজন আমাকে বলেছে— ‘স্যার, আপনি এখান থেকে বের হয়ে যান, না হলে আমার চাকরি থাকবে না।’ প্রশ্ন হলো, কার চাকরি? কার কাছে দায়বদ্ধতা? কার ইশারায় এসব ঘটছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমি প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।

এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা ইন্ধন দিচ্ছে— সেটিও তদন্ত করে বের করা উচিত উল্লেখ করে এমপি বলেন, আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা আমার ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে এবং হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

৪০ টাকার ময়লা বিলে ১৫০ টাকা চাঁদা, প্রতিবাদ করায় জামায়াত এমপির উপর হামলা

আপডেট সময় ১১:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

সিটি কর্পোরেশনের ময়লা বিলেও চলছে চাঁদাবাজি। প্রতিবাদ করাতে স্বয়ং সংসদ সদস্যের ওপর হামলা করেছেন সুবিধাভোগীরা। ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার ঘটনায় সঙ্গে থাকা এক তরুণ আহত হয়েছেন।

আজ রবিবার (৮ মার্চ) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এমন অভিযোগ করেছেন আব্দুল বাতেন। এ সময় আহত তরুণ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এমপি আব্দুল বাতেন বলেন, আমি ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। নির্বাচনের পর থেকে লক্ষ্য করছি, আমি যেখানেই যাচ্ছি, আমার প্রতিপক্ষ দল বা পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি আমি মসজিদে গেলেও সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বাইরে যেকোনো কর্মসূচিতে গেলেও একই ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আগের মতোই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি—মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং দায়িত্ব পালনে তাদের সহযোগিতা চাইছি। কিন্তু প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই অযৌক্তিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আজ নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপনগর থানার চলন্তিকা মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত মল্লিকা মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে এসেছিলাম। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সালাম দেওয়ার পরই আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়। মসজিদের ভেতরে হঠাৎ করেই একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। আমার মনে হয়েছে, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এখানে এসেছিল এবং আমাকে কথা বলতে না দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এখনও আমি মসজিদের ভেতরেই অবস্থান করছি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সঙ্গীকে মারধর করা হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন। আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একাধিক মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এমপি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আমি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জনগণের কাছে যাওয়াটা আমার দায়িত্ব। আমি মানুষের কাছে যাব, তাদের সমস্যা-অভিযোগ শুনব— এটাই স্বাভাবিক। আমরা এখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে ময়লা অপসারণের নামে ১০০, ১২০ বা ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়, অথচ যারা ময়লা পরিবহন করেন তারা পান মাত্র ৪০ টাকা। বাকি অর্থ স্থানীয় কিছু নেতা ভোগ করেন। এই বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। আমি এর প্রতিকার চাই এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, আজ আমার সঙ্গে পুলিশও ছিল, কিন্তু তাদের আচরণ সন্তোষজনক ছিল না। বরং তারা আমার সঙ্গীদেরই নিবৃত করার চেষ্টা করেছে। এতে হামলাকারীরা আরও সুযোগ পেয়েছে। আমার পাশে থাকা এক তরুণকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে, তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এটি কোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকেও ক্যামেরা, ঘড়ি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকেও মারধর করা হয়েছে। আমি যেকোনো মসজিদে যেতে পারি, মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলতে পারি— এটি আমার অধিকার। আমি প্রতিদিনই এমন গণসংযোগ করছি এবং অন্য কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। এখানে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটি আমি বুঝতে পারছি না। এমনকি একজন আমাকে বলেছে— ‘স্যার, আপনি এখান থেকে বের হয়ে যান, না হলে আমার চাকরি থাকবে না।’ প্রশ্ন হলো, কার চাকরি? কার কাছে দায়বদ্ধতা? কার ইশারায় এসব ঘটছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমি প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।

এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা ইন্ধন দিচ্ছে— সেটিও তদন্ত করে বের করা উচিত উল্লেখ করে এমপি বলেন, আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা আমার ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে এবং হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।