ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছুটির দিনেও ছুটি নেই, শ্রমিক দিবসে কর্মনিষ্ঠায় অনন্য আনসার বাহিনী

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:৩১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে

আজ ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, বিশ্রাম ও সম্মানের প্রতীক। কিন্তু এই বিশেষ দিনেও দেশের কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের জীবনে ‘ছুটি’ বলে আলাদা কিছু নেই। নীরবে, নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। এদের মধ্যেই অন্যতম আনসার সদস্যরা।

শ্রমিক দিবসে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। ফাঁকা রাস্তা, নিস্তব্ধ অফিস-আদালত সবকিছুর মাঝেই দায়িত্বে অটল দাঁড়িয়ে আছেন আনসার সদস্যরা। গেটের সামনে সতর্ক দৃষ্টি, মুখে দায়িত্ববোধের ছাপ; তাদের উপস্থিতিই নিশ্চিত করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা।

ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ছুটির দিন কিংবা উৎসব—কোনোটিই তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে না। অন্যরা যখন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটান, তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকেন রোদে, গরমে কিংবা বৃষ্টির মধ্যেও।

ঠিক তেমনই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন অর্ধশতাধিক আনসার সদস্য। দায়িত্ব পালনরত সদস্য ইকরামুল কবির বলেন, “শ্রমিক দিবস সবার জন্য হলেও আমরা আনসার সদস্যরা দায়িত্বের কারণে এই ছুটি উপভোগ করতে পারি না। আমাদের কাছে দিনটি অন্য দিনের মতোই।”

আরেক সদস্য আরাফাত হোসেন বলেন, “আমাদের ডিউটি প্রতিদিনই করতে হয়। ছুটির দিন হোক বা সাধারণ দিন, কোনো পার্থক্য নেই।”

তাদের কথার মাঝে ফুটে ওঠে এক ধরনের নীরব কষ্ট, যা হয়তো উচ্চারণ করা হয় না, কিন্তু গভীরভাবে অনুভব করা যায়। অনেক আনসার সদস্যই গ্রামের বাড়ি থেকে দূরে শহরে কাজ করেন। মাসের পর মাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় তাদের। ঈদ, নববর্ষ কিংবা শ্রমিক দিবস বিশেষ দিনগুলো তাদের জীবনে আলাদা কোনো ছুটি নিয়ে আসে না। প্রিয়জনদের কণ্ঠস্বরই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র সান্ত্বনা।

কর্মপরিবেশও সবসময় অনুকূল নয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং কখনো অবহেলার শিকার হওয়া—এসবই তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। তবুও তারা দায়িত্বে অবিচল। কারণ তাদের সতর্ক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং মানুষের স্বস্তি।

আমরা যখন শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলি, তখন এই নীরব প্রহরীদের অবদান অনেক সময়ই আড়ালেই থেকে যায়। অথচ তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থমকে যেতে পারে।

মহান শ্রমিক দিবসে তাই আনসার সদস্যদের কথাও আমাদের স্মরণে রাখা জরুরি। তাদের এই নীরব ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনিবেদন আমাদের সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা হয়তো শিরোনামে আসে না, কিন্তু দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিঃশব্দে দায়িত্ব পালন করে যায়—সতর্কতায়, নিষ্ঠায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ছুটির দিনেও ছুটি নেই, শ্রমিক দিবসে কর্মনিষ্ঠায় অনন্য আনসার বাহিনী

আপডেট সময় ০৯:৩১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আজ ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, বিশ্রাম ও সম্মানের প্রতীক। কিন্তু এই বিশেষ দিনেও দেশের কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের জীবনে ‘ছুটি’ বলে আলাদা কিছু নেই। নীরবে, নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। এদের মধ্যেই অন্যতম আনসার সদস্যরা।

শ্রমিক দিবসে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। ফাঁকা রাস্তা, নিস্তব্ধ অফিস-আদালত সবকিছুর মাঝেই দায়িত্বে অটল দাঁড়িয়ে আছেন আনসার সদস্যরা। গেটের সামনে সতর্ক দৃষ্টি, মুখে দায়িত্ববোধের ছাপ; তাদের উপস্থিতিই নিশ্চিত করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা।

ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ছুটির দিন কিংবা উৎসব—কোনোটিই তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে না। অন্যরা যখন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটান, তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকেন রোদে, গরমে কিংবা বৃষ্টির মধ্যেও।

ঠিক তেমনই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন অর্ধশতাধিক আনসার সদস্য। দায়িত্ব পালনরত সদস্য ইকরামুল কবির বলেন, “শ্রমিক দিবস সবার জন্য হলেও আমরা আনসার সদস্যরা দায়িত্বের কারণে এই ছুটি উপভোগ করতে পারি না। আমাদের কাছে দিনটি অন্য দিনের মতোই।”

আরেক সদস্য আরাফাত হোসেন বলেন, “আমাদের ডিউটি প্রতিদিনই করতে হয়। ছুটির দিন হোক বা সাধারণ দিন, কোনো পার্থক্য নেই।”

তাদের কথার মাঝে ফুটে ওঠে এক ধরনের নীরব কষ্ট, যা হয়তো উচ্চারণ করা হয় না, কিন্তু গভীরভাবে অনুভব করা যায়। অনেক আনসার সদস্যই গ্রামের বাড়ি থেকে দূরে শহরে কাজ করেন। মাসের পর মাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় তাদের। ঈদ, নববর্ষ কিংবা শ্রমিক দিবস বিশেষ দিনগুলো তাদের জীবনে আলাদা কোনো ছুটি নিয়ে আসে না। প্রিয়জনদের কণ্ঠস্বরই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র সান্ত্বনা।

কর্মপরিবেশও সবসময় অনুকূল নয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং কখনো অবহেলার শিকার হওয়া—এসবই তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। তবুও তারা দায়িত্বে অবিচল। কারণ তাদের সতর্ক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং মানুষের স্বস্তি।

আমরা যখন শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলি, তখন এই নীরব প্রহরীদের অবদান অনেক সময়ই আড়ালেই থেকে যায়। অথচ তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থমকে যেতে পারে।

মহান শ্রমিক দিবসে তাই আনসার সদস্যদের কথাও আমাদের স্মরণে রাখা জরুরি। তাদের এই নীরব ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনিবেদন আমাদের সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা হয়তো শিরোনামে আসে না, কিন্তু দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিঃশব্দে দায়িত্ব পালন করে যায়—সতর্কতায়, নিষ্ঠায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে।