নোবিপ্রবিতে পিএইচডির ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার: গবেষকদের অসন্তোষ
- আপডেট সময় ০৭:৪১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পিএইচডি গবেষকদের জন্য ঘোষিত মাসিক ভাতা ৪০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় গবেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে গবেষকদের প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও পরবর্তীতে প্রশাসনের জারি করা এক অফিস আদেশে সেই ভাতা ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এতে ঘোষিত সুযোগ সুবিধার ওপর আস্থা রেখে ভর্তি হওয়া গবেষকরা নিজেদের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ (জুলাই-ডিসেম্বর) শিক্ষাবর্ষের পিএইচডির প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যোগ্য পিএইচডি গবেষকদের প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হবে। গত ৮ আগস্ট জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে একই তথ্য উল্লেখ ছিল। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউজিসি প্রদত্ত বাজেট অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ব্যাচভিত্তিক নির্দিষ্ট সংখ্যক ফেলোশিপ প্রদান করা হবে এবং নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (BOAS)-এর ৫৮তম সভার সুপারিশক্রমে, ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭০তম সভা এবং ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৮তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত (সিদ্ধান্ত নং–৫) অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়।
পিএইচডি গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সেশনে ভর্তিকৃত ফেলোদের প্রতি মাসে ৪০,০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হলেও ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (জুলাই–ডিসেম্বর) সেশনে ভর্তি হওয়া ১৮ জন ফেলো চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রায় চার মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো ভাতা প্রদান করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পিএইচডি গবেষকদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ফেলোশিপ বহাল রাখা, চলমান ভাতা সংকট দ্রুত নিরসন এবং ভবিষ্যতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে আরোও বলা হয়, গবেষণার ব্যয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পূর্বঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ভাতা বহাল রাখা জরুরি। অন্যথায় গবেষণা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০২৫-২৬ (জুলাই ডিসেম্বর) সেশনে পিএইচডিতে ভর্তি হওয়া পিএইচডি ফেলো মো: ইয়াসিন বলেন- ৯ মাস আগে প্রথম আলো পত্রিকার ৪০ হাজার টাকার পিএইচডি ফেলোশিপ এর বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করলাম। কিন্তু ইতোমধ্যে শোনা যাচ্ছে ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার দিবে। বিষয়টা নিয়ে আমরা পিএইচডি ফেলোরা চরম হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। তাছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ৪০,০০০ টাকার কথা উল্লেখ থাকলেও Fellowship Acceptance Letter এ ফেলোশিপ টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। এই ধরনের অসংগতি হলে স্বস্ব নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ থেকে ছুটিও নিতে অসুবিধে হবে এবং সবকিছুতে জটিলতা তৈরি হবে। আশা করি প্রশাসন এই ধরনের অসংগতিপূর্ণ এবং জটিলতা দ্রুত সমাধান করে পিএইচডি ফেলোদের হতাশা দূর করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য আরেকজন পিএইচডি গবেষক বলেন- আমরা ভেবেছিলাম ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যে ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটাই বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত আমাদের পুরো পরিকল্পনাকেই অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক এবং পূর্বঘোষিত ভাতাই বহাল রাখুক। একই সঙ্গে ভাতা প্রদানে যে বিলম্ব হচ্ছে সেটিও দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন, না হলে গবেষণার গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এই বিষয়ে রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, অ্যাডভান্স স্টাডিস বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদনের পর ৪০ হাজার টাকার পিএইচডি ফেলোশিপের সিদ্ধান্ত নোটিশ আকারে আসে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রিসার্চ সেল ও ফেলোশিপ কমিটির যৌথ মিটিংয়ে ৪০ হাজার টাকা বহাল রাখার সুপারিশ করে প্রশাসনের কাছে ফাইল নোট পাঠানো হয়, তবে উপাচার্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কমিটির ওপর ছেড়ে দেন। রিসার্চ সেলের অবস্থান হলো, যেহেতু শিক্ষার্থীরা ৪০ হাজার টাকা ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তা বহাল থাকা উচিত, আর নতুনদের জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে সেটি আলাদাভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ইউজিসি কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দের বাহিরে আমাদের টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া যোগ্য পিএইচডি গবেষকদের প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট ফেলোশিপ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, সবাইকে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিটিংয়ে বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে যোগ্যদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





















