ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

এবারের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে (২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩৪, শিশু ৪৮।

১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪.১২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৮.২৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩.১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন, অর্থাৎ ১১.৭৪ শতাংশ।

এই সময়ে ১৩টি নৌ-পথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন। এই সাথে ২৪টি কোরবানীর গরু মারা গেছে। ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন (৪৪.১২ শতাংশ), বাস যাত্রী ২১ জন (৭.৪৭ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩২ জন (১১.৩৮ শতাংশ), প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১১ জন (৩.৯১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৮ জন (১৭.০৮ শতাংশ) এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৮ জন (২.৮৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৭টি (৩৩.২১ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১১২টি (৩৮.৩৫ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪২টি (১৪.৩৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৭টি (১২.৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৪টি (১.৩৬ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৭৩টি (২৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২৭টি (৪৩.৪৯ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩৮টি (১৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪২টি (১৪.৩৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১২টি (৪.১০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি-গ্যাসবাহী লরি ২২.০৯ শতাংশ, বাস ১৫.৫৮ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জীপ ৪.৩৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ৩০.৯৬ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ১৮.৩৪ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৩.৫৫ শতাংশ, প্যাডেল রিকশা-বাইসাইকেল ২.৩৬ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২.৭৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫০৭টি। (বাস ৭৯, ট্রাক ৬১, কাভার্ডভ্যান ১১, পিকআপ ২৪, ট্রলি ৫, লরি ২, ড্রাম ট্রাক ৭, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ১, গ্যাসবাহী লরি ১, মাইক্রোবাস ৫, প্রাইভেটকার ১১, অ্যাম্বুলেন্স ৪, পাজেরো জীপ ২, মোটরসাইকেল ১৫৭, থ্রি-হুইলার ৯৩ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র), প্যাডেল রিকশা-বাইসাইকেল ১২ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৪টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬.১৬%, সকালে ২৩.৬৩%, দুপুরে ১৭.৮০%, বিকালে ২১.২৩%, সন্ধ্যায় ১১.৬৪% এবং রাতে ১৯.৫২%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩২.৫৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩৫.৯৪ শতাংশ , রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.৮০ শতাংশ, প্রাণহানি ১৮.৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১২.০৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৯৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১০.৩২ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৯০ শতাংশ, প্রাণহানি ৭.১১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৩.০৮ শতাংশ, প্রাণহানি ২.৪৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৬১ শতাংশ, প্রাণহানি ৭.৮২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.১০ শতাংশ, প্রাণহানি ৫.৬৯ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এবারের ঈদযাত্রার টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁরা ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্যান্য মহাসড়কে থেমে থাকা বিকল যানবাহনের পেছনে অন্য যানবাহন ধাক্কা দেয়ায় ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিলেন ২৬ জন। এবছরে প্রতিদিন গড়ে ২১.৬১ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় প্রাণহানি কমেছে ১৬.৮৮ শতাংশ। তবে প্রাণহানি কমার এই হার কোনো উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না। কারণ পরিবহন খাতে কোনো প্রকার ব্যবস্থাপনাগত উন্নতি ঘটেনি। কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১১ জন পথচারী নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।

ঈদ উদযাপনকালে মাত্র ৪/৫ দিনে বিপুল সংখ্যাক মানুষেকে পরিবহন করার মতো মানসম্পন্ন নিরাপদ গণপরিবহন আমাদের নেই। ফলে মানুষ অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রা করে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন। আসলে একটি, সুস্থ- স্বাভাবিক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে কমপক্ষে ৩ বছর মেয়াদি একটি টেকসই ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনার অধীনে রেলপথ সংস্কার এবং সম্প্রসারণ করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে সড়ক পথের মানুষকে ট্রেনমুখী করতে হবে। নৌ-পরিবহন উন্নত ও জনবান্ধব করতে হবে।

বিআরটিসি’র রুট বিস্তৃত করে বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পুলিশ, বিজিবি, আনসার-সহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের যেসব বাস রয়েছে সেগুলো সরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঈদযাত্রায় ব্যবহার করলে দেশে মানসম্পন্ন গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ঈদযাত্রায় মহাসড়কে টোলপ্লাজার কারণে যানজট তৈরি হয়। এজন্য শুধুমাত্র ঈদযাত্রায় টোলপ্লাজা উন্মুক্ত করে দিলে এই যানজট এড়ানো সম্ভব হবে। এতে খুব বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে না। ঈদযাত্রায় পোশাক শ্রমিকরা যাতে পর্যায়ক্রমে ছুটি উপভোগ করতে পারেন সেজন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে। পোশাক শ্রমিকদের জন্য অঞ্চলভিত্তিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদযাত্রার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১

আপডেট সময় ০২:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

এবারের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে (২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩৪, শিশু ৪৮।

১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪.১২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৮.২৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩.১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন, অর্থাৎ ১১.৭৪ শতাংশ।

এই সময়ে ১৩টি নৌ-পথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন। এই সাথে ২৪টি কোরবানীর গরু মারা গেছে। ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন (৪৪.১২ শতাংশ), বাস যাত্রী ২১ জন (৭.৪৭ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩২ জন (১১.৩৮ শতাংশ), প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১১ জন (৩.৯১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৮ জন (১৭.০৮ শতাংশ) এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৮ জন (২.৮৪ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৭টি (৩৩.২১ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১১২টি (৩৮.৩৫ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪২টি (১৪.৩৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৭টি (১২.৬৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৪টি (১.৩৬ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৭৩টি (২৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২৭টি (৪৩.৪৯ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩৮টি (১৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪২টি (১৪.৩৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১২টি (৪.১০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি-গ্যাসবাহী লরি ২২.০৯ শতাংশ, বাস ১৫.৫৮ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জীপ ৪.৩৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ৩০.৯৬ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ১৮.৩৪ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৩.৫৫ শতাংশ, প্যাডেল রিকশা-বাইসাইকেল ২.৩৬ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২.৭৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫০৭টি। (বাস ৭৯, ট্রাক ৬১, কাভার্ডভ্যান ১১, পিকআপ ২৪, ট্রলি ৫, লরি ২, ড্রাম ট্রাক ৭, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ১, গ্যাসবাহী লরি ১, মাইক্রোবাস ৫, প্রাইভেটকার ১১, অ্যাম্বুলেন্স ৪, পাজেরো জীপ ২, মোটরসাইকেল ১৫৭, থ্রি-হুইলার ৯৩ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র), প্যাডেল রিকশা-বাইসাইকেল ১২ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৪টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬.১৬%, সকালে ২৩.৬৩%, দুপুরে ১৭.৮০%, বিকালে ২১.২৩%, সন্ধ্যায় ১১.৬৪% এবং রাতে ১৯.৫২%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩২.৫৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৩৫.৯৪ শতাংশ , রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.৮০ শতাংশ, প্রাণহানি ১৮.৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১২.০৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৯৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১০.৩২ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৯০ শতাংশ, প্রাণহানি ৭.১১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৩.০৮ শতাংশ, প্রাণহানি ২.৪৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৬১ শতাংশ, প্রাণহানি ৭.৮২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.১০ শতাংশ, প্রাণহানি ৫.৬৯ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এবারের ঈদযাত্রার টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁরা ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্যান্য মহাসড়কে থেমে থাকা বিকল যানবাহনের পেছনে অন্য যানবাহন ধাক্কা দেয়ায় ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিলেন ২৬ জন। এবছরে প্রতিদিন গড়ে ২১.৬১ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় প্রাণহানি কমেছে ১৬.৮৮ শতাংশ। তবে প্রাণহানি কমার এই হার কোনো উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না। কারণ পরিবহন খাতে কোনো প্রকার ব্যবস্থাপনাগত উন্নতি ঘটেনি। কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১১ জন পথচারী নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।

ঈদ উদযাপনকালে মাত্র ৪/৫ দিনে বিপুল সংখ্যাক মানুষেকে পরিবহন করার মতো মানসম্পন্ন নিরাপদ গণপরিবহন আমাদের নেই। ফলে মানুষ অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রা করে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন। আসলে একটি, সুস্থ- স্বাভাবিক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে কমপক্ষে ৩ বছর মেয়াদি একটি টেকসই ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনার অধীনে রেলপথ সংস্কার এবং সম্প্রসারণ করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে সড়ক পথের মানুষকে ট্রেনমুখী করতে হবে। নৌ-পরিবহন উন্নত ও জনবান্ধব করতে হবে।

বিআরটিসি’র রুট বিস্তৃত করে বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পুলিশ, বিজিবি, আনসার-সহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের যেসব বাস রয়েছে সেগুলো সরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঈদযাত্রায় ব্যবহার করলে দেশে মানসম্পন্ন গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ঈদযাত্রায় মহাসড়কে টোলপ্লাজার কারণে যানজট তৈরি হয়। এজন্য শুধুমাত্র ঈদযাত্রায় টোলপ্লাজা উন্মুক্ত করে দিলে এই যানজট এড়ানো সম্ভব হবে। এতে খুব বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে না। ঈদযাত্রায় পোশাক শ্রমিকরা যাতে পর্যায়ক্রমে ছুটি উপভোগ করতে পারেন সেজন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে। পোশাক শ্রমিকদের জন্য অঞ্চলভিত্তিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে।