ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ দিনে ইসলামী ব্যাংক হারাল ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

গ্রাহকদের বিক্ষোভের কারণে বেড়ে গেছে ইসলামী ব্যাংকের আমানত উত্তোলন। ফলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির চাপ বাড়ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগ করা ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রতিবাদে ১ জুন শুরু হয় বিক্ষোভ। এরপর মাত্র ৭ দিনে ব্যাংকটি ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ৭ জুন সেখান থেকে কমে ১ লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটিতে নেমে এসেছে।

‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে চলা কর্মসূচির কারণে কয়েকটি শাখার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন গতকাল বলেছিলেন, ব্যাংকটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য আমানত উত্তোলনের চাপের মুখে রয়েছে। ‘চলমান অস্থিরতার কারণে অনেক গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন।’

তিনি জানান, নেতিবাচক প্রচারণা, শাখাগুলোতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ এবং মৌসুমি কারণে আমানত কমছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও তাদের পরিচালন ব্যয় মেটাতে অর্থ তুলে নিচ্ছে।

‘বর্তমান অস্থিরতা কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে,’ মনে করেন তিনি।

আলতাফের মতে, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনও আমানত কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

খুরশীদ আলমকে নিয়োগের ঘোষণা আসার পর ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস ১ জুন শত শত মানুষ মতিঝিলে জড়ো হয়ে তার নিয়োগ বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকে চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একজন ছিলেন খুরশীদ।

এক বিবৃতিতে সচেতন গ্রাহক ফোরাম জানায়, তাদের সাতটি দফা দাবির সমর্থনে গতকাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের ‘অবৈধ চেয়ারম্যানের’ পদত্যাগ, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট কথিত ব্যাংক লুটেরাদের অপসারণ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৭ দিনে ইসলামী ব্যাংক হারাল ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত

আপডেট সময় ০৪:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

গ্রাহকদের বিক্ষোভের কারণে বেড়ে গেছে ইসলামী ব্যাংকের আমানত উত্তোলন। ফলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির চাপ বাড়ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগ করা ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রতিবাদে ১ জুন শুরু হয় বিক্ষোভ। এরপর মাত্র ৭ দিনে ব্যাংকটি ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ৭ জুন সেখান থেকে কমে ১ লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটিতে নেমে এসেছে।

‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে চলা কর্মসূচির কারণে কয়েকটি শাখার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন গতকাল বলেছিলেন, ব্যাংকটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য আমানত উত্তোলনের চাপের মুখে রয়েছে। ‘চলমান অস্থিরতার কারণে অনেক গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন।’

তিনি জানান, নেতিবাচক প্রচারণা, শাখাগুলোতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ এবং মৌসুমি কারণে আমানত কমছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও তাদের পরিচালন ব্যয় মেটাতে অর্থ তুলে নিচ্ছে।

‘বর্তমান অস্থিরতা কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে,’ মনে করেন তিনি।

আলতাফের মতে, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনও আমানত কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

খুরশীদ আলমকে নিয়োগের ঘোষণা আসার পর ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস ১ জুন শত শত মানুষ মতিঝিলে জড়ো হয়ে তার নিয়োগ বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকে চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একজন ছিলেন খুরশীদ।

এক বিবৃতিতে সচেতন গ্রাহক ফোরাম জানায়, তাদের সাতটি দফা দাবির সমর্থনে গতকাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের ‘অবৈধ চেয়ারম্যানের’ পদত্যাগ, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট কথিত ব্যাংক লুটেরাদের অপসারণ।