ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সর্বমোট ব্যয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। যা জিডিপি’র ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাক্কলিত বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা যা জিডিপির ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬০২০২৭’ শীর্ষ বিকল্প বা ছায়া বাজেট উপস্থাপন করে। দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন বাজেটের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সহ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক নেতার উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যও রাখেন জামায়াত আমির।

প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা-প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত জাতির সামনে একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে (২০২৪-২৫) আমাদের জিডিপির আকার ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি (৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ভিশন হচ্ছে ২০৪৫ এর মধ্যে আমাদের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়া। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। আমরা বাংলাদেশকে ঈমান, ইনসাফ ও সমতার ওপর ভিত্তি করে একটি সমৃদ্ধ ও সচল অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাজেট দর্শন সংগঠনটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শন থেকে উৎসারিত। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে সাম্য, ন্যায়বিচার, ও মানবিক মর্যাদায় অভিষিক্ত একটি আধুনিক ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার; জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষাখাতের গুরুত্ব অনুধাবনের স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা; বাজেট হতে হবে কর্মসংস্থানমুখী, বিনিয়োগ ও শিল্প বান্ধব; করের অভিঘাত থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে যথাসম্ভব রক্ষা করার প্রয়াস কাঙ্ক্ষিত; কর ব্যবস্থায় কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয় এবং রাষ্ট্র গরীবের বন্ধু হলেও ধনীর শত্রু নয়, একটি আধুনিক প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

এমপি মিলন বলেন, দুর্নীতি দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদকের প্রাদুর্ভাব নির্মূল, জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দক্ষতা ও কার্যকারিতা আনয়নের জন্য গুরুত্বারোপ করতে হবে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির যাত্রা এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কেবল সংখ্যাগত উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে কিন্তু জনগণের প্রকৃত জীবন মানের উন্নয়ন হয়নি। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।

তিনি কয়েকটি অর্থনৈতিক নির্দেশক ও সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স অনন্য ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে যে, সুশাসনের উন্নতি, দুর্নীতি হ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও বেদখল করেছে। একই প্রয়াস বর্তমান সময়েও পরিলক্ষিত হয়েছে। শ্বেতপত্র অনুযায়ী বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, টাকার হিসাবে যা পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা ফেরত আনা সম্ভব হলে সরকারের বাজেট ঘাটতিতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যমান মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে কতকগুলো নীতির ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে-রাজস্ব আহরণের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বহাল থাকবে; করজাল সম্প্রসারণ; অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া; কর আহরণে দুর্নীতি হ্রাস; কর রেয়াত ও মউকুফের যৌক্তিকীকরণ; এনবিআর ও দুদক সংস্কার ও পুনর্গঠন এবং এনবিআর সুশাসন নিশ্চিতকরণ এর দক্ষতা উন্নয়ন

বাজেট প্রস্তাবে এমপি মিলন বলেন, বর্তমানে মোট ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারধারীর (টিআইএন) সংখ্যা মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ, যার মধ্যে বর্তমান কর বছরে জমা দেয়া রিটার্নের সংখ্যা ৪০ লক্ষেরও কম। আমরা করজাল সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে উদ্যোগী। তাছাড়া উদ্যোক্তা সৃষ্টি, এসএমই খাতকে সমৃদ্ধ করা ও জীবনমান উন্নতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন করযোগ্য আয়ের সীমা ৪,৫০,০০০ টাকায় উন্নীত করা এবং পরবর্তী অর্থবছরে তা ৫,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করছি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের

আপডেট সময় ০৫:০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সর্বমোট ব্যয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। যা জিডিপি’র ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাক্কলিত বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা যা জিডিপির ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬০২০২৭’ শীর্ষ বিকল্প বা ছায়া বাজেট উপস্থাপন করে। দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন বাজেটের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সহ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক নেতার উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যও রাখেন জামায়াত আমির।

প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা-প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত জাতির সামনে একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে (২০২৪-২৫) আমাদের জিডিপির আকার ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি (৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ভিশন হচ্ছে ২০৪৫ এর মধ্যে আমাদের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়া। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। আমরা বাংলাদেশকে ঈমান, ইনসাফ ও সমতার ওপর ভিত্তি করে একটি সমৃদ্ধ ও সচল অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাজেট দর্শন সংগঠনটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শন থেকে উৎসারিত। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে সাম্য, ন্যায়বিচার, ও মানবিক মর্যাদায় অভিষিক্ত একটি আধুনিক ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার; জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষাখাতের গুরুত্ব অনুধাবনের স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা; বাজেট হতে হবে কর্মসংস্থানমুখী, বিনিয়োগ ও শিল্প বান্ধব; করের অভিঘাত থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে যথাসম্ভব রক্ষা করার প্রয়াস কাঙ্ক্ষিত; কর ব্যবস্থায় কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয় এবং রাষ্ট্র গরীবের বন্ধু হলেও ধনীর শত্রু নয়, একটি আধুনিক প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

এমপি মিলন বলেন, দুর্নীতি দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদকের প্রাদুর্ভাব নির্মূল, জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দক্ষতা ও কার্যকারিতা আনয়নের জন্য গুরুত্বারোপ করতে হবে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির যাত্রা এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কেবল সংখ্যাগত উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে কিন্তু জনগণের প্রকৃত জীবন মানের উন্নয়ন হয়নি। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।

তিনি কয়েকটি অর্থনৈতিক নির্দেশক ও সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স অনন্য ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে যে, সুশাসনের উন্নতি, দুর্নীতি হ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও বেদখল করেছে। একই প্রয়াস বর্তমান সময়েও পরিলক্ষিত হয়েছে। শ্বেতপত্র অনুযায়ী বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, টাকার হিসাবে যা পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা ফেরত আনা সম্ভব হলে সরকারের বাজেট ঘাটতিতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যমান মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে কতকগুলো নীতির ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে-রাজস্ব আহরণের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বহাল থাকবে; করজাল সম্প্রসারণ; অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া; কর আহরণে দুর্নীতি হ্রাস; কর রেয়াত ও মউকুফের যৌক্তিকীকরণ; এনবিআর ও দুদক সংস্কার ও পুনর্গঠন এবং এনবিআর সুশাসন নিশ্চিতকরণ এর দক্ষতা উন্নয়ন

বাজেট প্রস্তাবে এমপি মিলন বলেন, বর্তমানে মোট ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারধারীর (টিআইএন) সংখ্যা মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ, যার মধ্যে বর্তমান কর বছরে জমা দেয়া রিটার্নের সংখ্যা ৪০ লক্ষেরও কম। আমরা করজাল সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে উদ্যোগী। তাছাড়া উদ্যোক্তা সৃষ্টি, এসএমই খাতকে সমৃদ্ধ করা ও জীবনমান উন্নতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন করযোগ্য আয়ের সীমা ৪,৫০,০০০ টাকায় উন্নীত করা এবং পরবর্তী অর্থবছরে তা ৫,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করছি।