ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সারাদেশে শান্তিপূর্নভাবে অবরোধ কর্মসূচী পালিত হয়েছে

সারাদেশে জামায়াত-বিএনপির অবরোধের প্রথম দিন যা ঘটল

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ১২:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
  • / ১০৫৮৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষ।

বিচ্ছিন্ন সংঘাতের মধ্য দিয়ে চলছে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধ। ৭২ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে সংঘর্ষের খবর। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দুজনের। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশের সাতটি স্থানে আগুন দিয়েছে অবরোধ সমর্থকরা।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ঢাকার মিরপুর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বগুড়ার বেশ কয়েকটি জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ইট-পাটকেলের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল ছুঁড়ে মারে বিএনপিকর্মীরা। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে এ দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশের সাতটি জায়াগায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা সিটিতে একটি, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে চারটি, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় একটি করে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এমনকি একটি হাসপাতালেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে মিরপুরে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় বিএনপির অবরোধ কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। পাশাপাশি ১৫টি বাস ভাঙচুর করে তারা। এ ছাড়া দুটি মার্কেট, একটি ব্যাংকের শাখা ও দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সীমিত সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে রাস্তায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই। এ ছাড়া অবরোধের মধ্যে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে স্বাভাবিক দিনের মতোই ট্রেন চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে সদরঘাটে অধিকাংশ লঞ্চ ছিল নোঙর করা। পাশাপশি রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দিনব্যাপী অবরোধের এ চিত্রের মধ্যে রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার শহীদবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

সারাদেশে শান্তিপূর্নভাবে অবরোধ কর্মসূচী পালিত হয়েছে

সারাদেশে জামায়াত-বিএনপির অবরোধের প্রথম দিন যা ঘটল

আপডেট সময় ১২:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩

বিচ্ছিন্ন সংঘাতের মধ্য দিয়ে চলছে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধ। ৭২ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে সংঘর্ষের খবর। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দুজনের। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশের সাতটি স্থানে আগুন দিয়েছে অবরোধ সমর্থকরা।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ঢাকার মিরপুর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বগুড়ার বেশ কয়েকটি জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ইট-পাটকেলের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল ছুঁড়ে মারে বিএনপিকর্মীরা। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে এ দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশের সাতটি জায়াগায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা সিটিতে একটি, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে চারটি, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় একটি করে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এমনকি একটি হাসপাতালেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে মিরপুরে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় বিএনপির অবরোধ কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। পাশাপাশি ১৫টি বাস ভাঙচুর করে তারা। এ ছাড়া দুটি মার্কেট, একটি ব্যাংকের শাখা ও দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সীমিত সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে রাস্তায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই। এ ছাড়া অবরোধের মধ্যে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে স্বাভাবিক দিনের মতোই ট্রেন চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে সদরঘাটে অধিকাংশ লঞ্চ ছিল নোঙর করা। পাশাপশি রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দিনব্যাপী অবরোধের এ চিত্রের মধ্যে রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার শহীদবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।