ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলন বিএনপি নেতার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

পদ্মার ভয়াল ভাঙনে একসময় ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল নড়িয়ার হাজারো মানুষ। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিস্তীর্ণ জনপদ। সেই দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পদ্মাপাড়ে। এবার অভিযোগ উঠেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে প্রায় ৫০টি ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক প্রবাহ ও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বসারচর ও চরআত্রা মৌজার অন্তত ৫ হাজার একর কৃষিজমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। যদিও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, তিনি নিলামের মাধ্যমে কেনা চরের বালু উত্তোলন করছেন, নদীর তলদেশ থেকে কোনো বালু কাটা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার বসারচর এলাকায় পদ্মার তীরঘেঁষা নদীপথজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে অসংখ্য ড্রেজার। বিকট শব্দে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। নদীর মাঝামাঝি অংশ থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু তুলে বাল্কহেডে ভরা হচ্ছে। এরপর সেই বালু ঢাকা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ড্রেজার একযোগে কাজ করছে। প্রতিটি ড্রেজার থেকে দিনে ২৫ থেকে ৩০টি বাল্কহেডে বালু তোলা হয়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু নদী থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পদ্মার গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার অন্তত ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙন থেকে নড়িয়াকে রক্ষায় ২০১৯ সালে “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি নদীর চর খনন, জিওব্যাগ ফেলা ও তীর সংরক্ষণের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদী খননের সময় উত্তোলিত বালু বসারচর মৌজার ফসলি জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। পরে ওই স্তুপকৃত বালুর একটি অংশ বিক্রির জন্য নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন নিলাম আহ্বান করে। সেই নিলামে “তাসিন তাহান কন্সট্রাকশন” নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অংশ নেন বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ রয়েল। তিনি প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ১০ কোটি ঘনফুট বালু ক্রয় করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, নিলামের বালুর আড়ালে এখন সরাসরি নদীর তলদেশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, গত বছরও কয়েক মাস ধরে একইভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। পরে নানা অভিযোগ ওঠায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়। সম্প্রতি আবারও পুরোনো নিলামের কাগজ দেখিয়ে নতুন করে ড্রেজার বসানো হয়েছে।

বসারচরের কৃষক সালাউদ্দিন মোল্যা বলেন, ২০১৭ সালে পদ্মার ভাঙনে আমার বাড়িঘর ও জমি নদীতে চলে যায়। কয়েক বছর পর আবার চর জেগে উঠলে সেখানে চাষাবাদ শুরু করি। গত মৌসুমে আট একর জমিতে ধান করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এখন আবার ড্রেজিংয়ের কারণে সেই জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ড্রেজার শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ড্রেজার চলে। প্রতিদিন অসংখ্য বাল্কহেডে বালু তোলা হয়। কোনো বাধা ছাড়াই কাজ চলছে। মাঝে ২/১ দিন বন্ধ ছিল, এখন শতশত ড্রেজার দিয়ে রাতে ও সকালে বালু কাটছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল বলেন, আমি বৈধভাবে নিলামে কেনা বালু উত্তোলন করছি। নদীর তলদেশ থেকে বালু কাটার অভিযোগ সঠিক নয়। কিছু স্থানে ডুবোচর থাকায় বাল্কহেড চলাচলের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে চ্যানেল করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি কেবল স্তূপীকৃত বালুই উত্তোলন করা হয়, তাহলে নদীর ভেতরে এত বিপুলসংখ্যক ড্রেজার কেন বসানো হয়েছে?

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, নিলামে দেওয়া হয়েছে চরের স্তূপীকৃত বালু অপসারণের জন্য। কোনো অবস্থাতেই নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেছেন, সরকারি নিয়ম না মেনে কেউ বালু উত্তোলন করলে, সে যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। তিনি আরও বলেন, গত সরকারের আমলেও ওই এলাকায় দুই দফা টেন্ডারের মাধ্যমে বালু অপসারণ করা হয়েছিল।

এদিকে পদ্মাপাড়ের মানুষ বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আবার যদি অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন শুরু হয়, তাহলে সরকারি সব উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তাদের দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার অপসারণ করে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। না হলে আবারও নড়িয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ পদ্মার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলন বিএনপি নেতার

আপডেট সময় ০৩:০৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

পদ্মার ভয়াল ভাঙনে একসময় ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল নড়িয়ার হাজারো মানুষ। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিস্তীর্ণ জনপদ। সেই দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পদ্মাপাড়ে। এবার অভিযোগ উঠেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে প্রায় ৫০টি ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক প্রবাহ ও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বসারচর ও চরআত্রা মৌজার অন্তত ৫ হাজার একর কৃষিজমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। যদিও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, তিনি নিলামের মাধ্যমে কেনা চরের বালু উত্তোলন করছেন, নদীর তলদেশ থেকে কোনো বালু কাটা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার বসারচর এলাকায় পদ্মার তীরঘেঁষা নদীপথজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে অসংখ্য ড্রেজার। বিকট শব্দে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। নদীর মাঝামাঝি অংশ থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু তুলে বাল্কহেডে ভরা হচ্ছে। এরপর সেই বালু ঢাকা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ড্রেজার একযোগে কাজ করছে। প্রতিটি ড্রেজার থেকে দিনে ২৫ থেকে ৩০টি বাল্কহেডে বালু তোলা হয়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু নদী থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পদ্মার গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার অন্তত ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙন থেকে নড়িয়াকে রক্ষায় ২০১৯ সালে “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি নদীর চর খনন, জিওব্যাগ ফেলা ও তীর সংরক্ষণের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদী খননের সময় উত্তোলিত বালু বসারচর মৌজার ফসলি জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। পরে ওই স্তুপকৃত বালুর একটি অংশ বিক্রির জন্য নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন নিলাম আহ্বান করে। সেই নিলামে “তাসিন তাহান কন্সট্রাকশন” নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অংশ নেন বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ রয়েল। তিনি প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ১০ কোটি ঘনফুট বালু ক্রয় করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, নিলামের বালুর আড়ালে এখন সরাসরি নদীর তলদেশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, গত বছরও কয়েক মাস ধরে একইভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। পরে নানা অভিযোগ ওঠায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়। সম্প্রতি আবারও পুরোনো নিলামের কাগজ দেখিয়ে নতুন করে ড্রেজার বসানো হয়েছে।

বসারচরের কৃষক সালাউদ্দিন মোল্যা বলেন, ২০১৭ সালে পদ্মার ভাঙনে আমার বাড়িঘর ও জমি নদীতে চলে যায়। কয়েক বছর পর আবার চর জেগে উঠলে সেখানে চাষাবাদ শুরু করি। গত মৌসুমে আট একর জমিতে ধান করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এখন আবার ড্রেজিংয়ের কারণে সেই জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ড্রেজার শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ড্রেজার চলে। প্রতিদিন অসংখ্য বাল্কহেডে বালু তোলা হয়। কোনো বাধা ছাড়াই কাজ চলছে। মাঝে ২/১ দিন বন্ধ ছিল, এখন শতশত ড্রেজার দিয়ে রাতে ও সকালে বালু কাটছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল বলেন, আমি বৈধভাবে নিলামে কেনা বালু উত্তোলন করছি। নদীর তলদেশ থেকে বালু কাটার অভিযোগ সঠিক নয়। কিছু স্থানে ডুবোচর থাকায় বাল্কহেড চলাচলের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে চ্যানেল করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি কেবল স্তূপীকৃত বালুই উত্তোলন করা হয়, তাহলে নদীর ভেতরে এত বিপুলসংখ্যক ড্রেজার কেন বসানো হয়েছে?

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, নিলামে দেওয়া হয়েছে চরের স্তূপীকৃত বালু অপসারণের জন্য। কোনো অবস্থাতেই নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেছেন, সরকারি নিয়ম না মেনে কেউ বালু উত্তোলন করলে, সে যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। তিনি আরও বলেন, গত সরকারের আমলেও ওই এলাকায় দুই দফা টেন্ডারের মাধ্যমে বালু অপসারণ করা হয়েছিল।

এদিকে পদ্মাপাড়ের মানুষ বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আবার যদি অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন শুরু হয়, তাহলে সরকারি সব উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তাদের দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার অপসারণ করে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। না হলে আবারও নড়িয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ পদ্মার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।