পরিদর্শন কক্ষ সাজাতে ৬ লাখের সরকারি বরাদ্দে ১৬ লাখ টাকা খরচ করল বিএনপি এমপি
- আপডেট সময় ০১:২৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / ৩৭ বার পড়া হয়েছে
সরকারি নির্ধারিত ৬ লাখ টাকার বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত আরও ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জন্য একটি পরিদর্শন কক্ষ সংস্কার ও সাজসজ্জার অভিযোগ উঠেছে। মোট ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার প্রতিটি সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা পরিষদে একটি করে পরিদর্শন কক্ষ সংস্কার ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়। ওই বরাদ্দ দিয়েই কক্ষটি প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল।
গত সোমবার (২০ জুলাই) কক্ষটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। এরপরই ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরকারের পৃথক বরাদ্দ থাকার পরও কেন একই কাজে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, বরাদ্দের নামে অধিকাংশ অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমিত সরকারি অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জনসেবামূলক খাতে ব্যয়ের পরিবর্তে একটি কক্ষ সংস্কারে ১৬ লাখ টাকা ব্যয় কতটা যৌক্তিক, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা এ ব্যয়ের স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, “মাননীয় সাংসদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তিনি যে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন। সে অনুযায়ী এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “আমি যোগদানের আগেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তারাই এ বিষয়ে জবাবদিহি করবেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















