আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিয়ে করলেন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি
স্টাফ রিপোর্টার
- আপডেট সময় ০৫:০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও তাসনুভা আনান শিশির ওরফে কামাল হোসেন নামের ট্রান্সজেন্ডার এক ব্যক্তি বিয়ে করেছেন। গত ১০ জুলাই রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মের রীতিতে এক সনতনী যুবককে বিয়ে করেন তিনি।
শারীরিক গঠনে পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করা ওই ব্যক্তি অপর একটি পুরুষকে বিয়ে করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও নিন্দা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দেশে সমলিঙ্গের বিয়ে সরাসরি নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিভিন্ন মহল ক্ষোভ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি যদি তাঁর জন্মগত লিঙ্গের মানুষের সাথে (যেমন: একজন ট্রান্স-উইমেন বা পুরুষ থেকে রূপান্তরিত নারী যদি অন্য কোনো পুরুষের সাথে) বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন, তবে প্রচলিত সামাজিক ও আইনি দৃষ্টিতে সেটিকে “সমলিঙ্গের বিয়ে” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে সমলৈঙ্গিক বিয়ের কোনো আইনি বা সামাজিক স্বীকৃতি নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যেহেতু বাংলাদেশে লিঙ্গ পরিবর্তনের (হরমোন থেরাপির মাধ্যমে) পর আইনি নথিপত্রে (যেমন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট) লিঙ্গ পরিবর্তন করার স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি নীতিমালা বা অধিকার নেই, তাই কেউ নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করলেও আইনের চোখে তিনি তাঁর জন্মগত লিঙ্গেই থেকে যান। ফলে একজন রূপান্তরিত নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের কাউকে বিয়ে করতে চাইলেও নথিপত্র এবং ধর্মীয় আইনের জটিলতার কারণে সেই বিয়ে আইনি বৈধতা পায় না।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিয়াউল হক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে হয়ে গেল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। অথচ প্রশাসন নিরব। ভাবুন তো, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যদি একটা বাল্যবিবাহ হতো, তাহলে মিডিয়াপাড়া ও প্রশাসনের অবস্থান কেমন হতো। ম্যারিজ রাইটস ও আইনে বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধান থাকা সত্ত্বেও চারদিকে হইচই পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ট্রান্সজেন্ডার এর মত নিষিদ্ধ ও প্রকৃতি বিরোধী সমকামী বিয়ে যেখানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেখানে মিডিয়াপাড়া কিংবা প্রশাসনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিয়েটা হয়েছে পুরুষে-পুরুষে। ছবির মহিলা কথিত তাসনুভার আসল নাম হচ্ছে কামাল হোসেন। সে একজন পুরুষ। এটি একটি সমকামি বিয়ে। দ্রুত এদেরকে ও এদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
ট্যাগস :













