প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ, আসছে নতুন নীতিমালা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে এগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে নতুন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আসছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ সময় নিয়ম অমান্যকারী অটোরিকশা আটক, ডাম্পিং এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে অনুমোদিত অটোরিকশাগুলোকে নাম্বার প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ছাড়া চালকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অটোরিকশার নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নীতিমালার আওতায় নেওয়া হবে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং বন্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারি হিসাবে, দেশে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের দৈনিক চার্জিংয়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা সচল রয়েছে। এসব ক্যামেরা অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। এর ধারাবাহিকতায় ট্রাফিক রমনা ও তেজগাঁও বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।



















