ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি নেই, চড়া মাছের বাজারও
- আপডেট সময় ০৩:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মধ্যে ডিম ও মুরগির দাম এখনো বাড়তি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫০ টাকায় স্থির রয়েছে। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় মুরগি রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আগস্টের শুরুর দিকে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে শুরু করে। তার আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা এবং ফার্মের ডিমের এক ডজন ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হতো। দাম বাড়ার পর থেকে আর আগের অবস্থায় ফেরেনি পণ্য দুটি।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত পাঁচ-ছয় মাসে অতিরিক্ত গরম, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে ডিম উৎপাদনকারী মুরগি ও ব্রয়লার- দুই ধরনের মুরগির সরবরাহেই প্রভাব পড়েছে। ক্ষতির পর অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে না ফেরায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এর সঙ্গে লোডশেডিংয়ের সমস্যাও খামার পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বাড়িয়ে গতকাল সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। তবে হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ডের দাম তুলনামূলক কম, প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা।
মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছ আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গতকাল চাষের পাঙাশের কেজি ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছের কেজি ৪০০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সবজিতে তুলনামূলক স্বস্তি
তবে মাছ, ডিম ও মুরগির তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা সহনীয়। অধিকাংশ সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য বরবটি, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম এখনো কেজিতে ১০০ টাকার বেশি।
তেল-চিনিতেও বেড়েছে খরচ
নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল ও চিনির দামও ক্রেতাদের বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায়। এর ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় এক মাস আগে খোলা চিনির কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। এখন রাজধানীর বাজারগুলোতে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা কেজি দরে। মোড়কজাত চিনির কেজি ১২০ টাকা।
সুগন্ধি চালেও বাড়তি দাম
পোলাও চাল ও অন্যান্য সুগন্ধি চালের দামও এখনো কেজিতে প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত থাকায় দেশের বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে তাঁরা রপ্তানি কমানোর দাবি জানিয়েছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে এর প্রভাব খুচরা বাজারে কতটা পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



















