ডাকসু নেতা রায়হান
‘বিএনপির শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্বের পাশাপাশি ঢাবিতে পার্টটাইম হিসেবে ক্ষেপ মারেন ভিসি’
- আপডেট সময় ০২:২০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বাধা ও অসহযোগিতার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন। এসময় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এমনকি রাজনৈতিক নেতার মতো ডাকসুর কোনো প্রোগ্রামে যাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবি ভিসি। অবশ্য তিনি তো রাজনৈতিক নেতাই। শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্বের পাশাপাশি পার্টটাইম ঢাবি ভিসি হিসেবে ক্ষেপ মারেন।’
গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাকসু নেতা রায়হান উদ্দীনের ফেসবুক পোস্ট ‘দ্য ঢাকা ডায়েরি’র পাঠকদের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলো:
“ডাকসু কী করেছে, সেটা আপাতত বাদ দেন। চলেন দেখি, গত একবছর ছাত্রদল ও বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন কী করেছে।
১) বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন ডাকসুর প্রায় সকল কাজেই নানাভাবে বাধা দিয়েছে। এমনকি মসজিদে এসির লাইন দেওয়ার কাজ করতেও আমাদের অফিস ঘেরাও করতে হয়েছে। এখনও নারীদের জন্য তৈরি অত্যাধুনিক জিমনেসিয়াম ও মাঠ সংস্কারের জন্য আনা ২ কোটি টাকার কাজ করতে দেওয়া হয়নি। প্রত্যেকটি কাজে নানা অজুহাতে কাজ আটকে দেওয়া হয়েছে; অথবা কাজ হওয়ার পরও উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি রাজনৈতিক নেতার মতো ডাকসুর কোনো প্রোগ্রামে যাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবি ভিসি। অবশ্য তিনি তো রাজনৈতিক নেতাই! শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্বের পাশাপাশি পার্টটাইম ঢাবি ভিসি হিসেবে ক্ষেপ মারেন।
২) ছাত্রদল ডাকসুর নেতৃবৃন্দের ওপর বিনা কারণে ও উসকানি ছাড়াই হামলা করেছে। হামলা করে বুনো উল্লাস করেছে। এমনকি সাংবাদিকরা সংবাদ কাভার করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করেছে। অথচ যথাযথ প্রমাণসহ ভিসি ও প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পরও এখনো কোনো বিচার হয়নি।
৩) ফজলুল হক হলে এক শিক্ষার্থীকে রুমে ডেকে হেনস্তা করেছেন হলের প্রভোস্ট। এর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হলে সেখানে হল সংসদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল। এখনও সেই মাস্তান প্রভোস্টের বিচার হয়নি। উল্টো হল সংসদের নেতৃবৃন্দকে শোকজ করেছে বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন।
৪) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানে স্থায়ী উদ্যোগ হিসেবে চীনের অর্থায়নে হল নির্মাণ এবং বৃহত্তর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হল নির্মাণের কথা থাকলেও বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন সেই কাজ আটকে রাখে। পাছে ডাকসু আবার ক্রেডিট পেয়ে যায়।
৫) হলের খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহের জন্য হলগুলোতে টিসিবির পণ্য দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ করে ডাকসু। টিসিবির পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটি নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
৬) ক্যাম্পাসের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য দুটি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং ৫০০টি অত্যাধুনিক ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য আবেদন করে ডাকসু। সিটি কর্পোরেশন থেকেও সেই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই অনুমোদিত প্রকল্পটিও বন্ধ করে দেয়।
৭) ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রত্যেক বিভাগে টিচার অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ সৃষ্টি করার জন্য মৌখিক, লিখিত আবেদন থেকে শুরু করে কর্মসূচি—কত কিছুই না করেছি আমরা। প্রশাসন বাজেটের অজুহাত দেখালে আমরা ইউজিসি থেকে বাজেট আনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছি। কিন্তু প্রশাসন এটাও করতে দেবে না।
৮) ডাকসু বাজেট নিয়ে আসার পরও শনিবারের বাস চালু করতে অফিস ঘেরাও করতে হয়েছে। তা না হলে সেটাও আটকে রাখত।
৯) ডাকসু ও হল সংসদকে পর্যাপ্ত বাজেট দেয়নি প্রশাসন। বারবার দাবি জানালেও কোষাধ্যক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ডাকসুকে অকার্যকর করে রাখার এই চেষ্টাও করেছে বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন।
১০) শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা এবং হলে সিট বণ্টনে অভিন্ন নীতিমালার দাবিতে ডাকসু বারবার ভিসি-প্রোভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সিট নীতিমালার প্রস্তাবনাও দিয়েছে ডাকসু। কিন্তু প্রশাসন ছাত্রদল ও অছাত্রদের সুবিধা দেওয়ার জন্য একপাক্ষিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
১১) শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন। একই সঙ্গে দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের পুরোনো, ফাঁকফোকরযুক্ত নীতিমালাও অব্যাহত রেখেছে।
১২) ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মানোন্নয়নের জন্য লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেিলো ডাকসু। কিন্তু, প্রশাসন মানবে না। এমনকি ক্যাফেটেরিয়াতে পঁচা খাবার পরিবেশন এবং আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নিউজ হওয়ার পরও এবং প্রামাণ্য অভিযোগ করার পরও তাদেরকে দলীয় বিবেচনায় শেল্টার দিয়েছে প্রশাসন।
এভাবে উল্লেখ করতে থাকলে একটি পুরো গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব। বিএনপি ও ছাত্রদলের যৌথ প্রচেষ্টায় ডাকসুকে ব্যর্থ করার যে পুরো প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা নস্যাৎ করে দিয়ে ডাকসু তার কাজ চালিয়ে গেছে। নিজের সক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ নিয়েও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছে।
সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে এই নির্লজ্জ ছাত্রদল যখন মিডিয়ার সামনে এসে বলে, ডাকসু শতভাগ ব্যর্থ—তখন লজ্জা নিজেই লজ্জিত হয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলে। এই ডাকসু যেমন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চেয়ারে বসা বিএনপির দলদাসদের চরম অসহযোগিতা এবং ছাত্রদলের নির্লজ্জ সন্ত্রাসও ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”



















