আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি হান্নান মাসউদকে ঘিরে উত্তেজনা, হাতাহাতি
- আপডেট সময় ০৮:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে হাতিয়ার নৌঘাটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর জেরে উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
এ সময় ছাত্রদল-যুবদল ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা ও এনসিপির দলীয় কর্মী সমাবেশেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে পরিষদ ভবনে আসার পথে প্রবেশদ্বারে হান্নান মাসউদ ও তার অনুসারীরা ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় এনসিপি সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রদল-যুবদলের বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ উপজেলা পরিষদের গেইটে পৌঁছালে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তার আগের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। এ সময় এমপি নিজেও তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তাকে আইনশৃঙ্খলা সভায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে সভার শেষ পর্যায়ে বাইরে পুনরায় হট্টগোল শুরু হলে এমপি তা জানতে পারেন। সভা থেকে বেরিয়ে তিনি নিজেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কিলঘুষিতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্য সচিব ছাইফুল ইসলাম রাকিব এবং ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন হিরো, আজাদ ও আকরামসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় এমপি হান্নান মাসউদ ও তার অনুসারীরা নিরাপদে নিজ বাসভবনে চলে যান।
ঘটনা প্রসঙ্গে এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক সামছুল তিব্রিজ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এমপির সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক ইকবাল বলেন, এমপি হান্নান মাসউদ জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। আজকের এই ঘটনার জন্যও হান্নান মাসউদের উসকানি ও উগ্রতাই দায়ী। এখানে দলীয় কোনো নাশকতার নির্দেশনা ছিল না।



















