‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান নিয়ে যুবদল নেতা নয়নকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জামায়াতের
- আপডেট সময় ০৫:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ দাড়ি নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ ও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নয়নের বক্তব্যের জন্য তাঁকে দেশবাসী এবং বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, সম্প্রতি যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন মুসলমানদের অন্যতম সুন্নাহ এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দাড়ি নিয়ে ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এ ধরনের স্লোগান দিয়েছেন।
জুবায়েরের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাঁর ভাষায়, এটি অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ।
তিনি বলেন, কোনো ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মীয় অনুষঙ্গ নিয়ে অবমাননাকর বা কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রত্যেকের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।
জুবায়ের আরও বলেন, নয়নের বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী। তাই তাঁর বিতর্কিত স্লোগানের জন্য দেশবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত।
বিএনপির অবস্থান জানতে চায় জামায়াত
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান জুবায়ের বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডকে তাদের অঙ্গসংগঠন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের বক্তব্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান জানানো না হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—বিএনপি কি নয়নের এ ধরনের স্লোগান ও বক্তব্যকে সমর্থন করে?
বিএনপির হাইকমান্ডের উচিত কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না রেখে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
বিবৃতিতে জুবায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে নয়নের কথিত বক্তব্যের বিষয়ে তাঁর নিজের বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা জুবায়েরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে স্লোগানটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং নয়নের বক্তব্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।



















