ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া, আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বীজ আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারের ভাড়াসহ উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর ওপর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হিমাগার মালিকরা কৌশলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন আলু সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। হিমাগারগুলোতে বীজ আলুর পরিস্থিতি আরো করুণ। সেখানে প্রতি কেজি বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে।

চাষিদের অভিযোগ, লোকসানের এই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে হিমাগারগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। সরকার প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছয় টাকা নির্ধারণ করে দিলেও হিমাগার কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। তারা বস্তা প্রতি (৫৫-৬০ কেজি) ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সোহেল রানা নামের এক ভুক্তভোগী কৃষক।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তা হিমাগারে বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা চুক্তিতে তিনি ১৫০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ৩৫ বস্তা আলু খালাস করতে গেলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তার কাছ থেকে বস্তা প্রতি ৪১০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। একই হিমাগারে আলু রাখা পুটিমারী ইউনিয়নের চাষি সানার আলী এবং ক্ষুদ্র চাষি আনারুল ইসলামও সমপরিমাণ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। আলু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, গত তিন বছর ধরে লোকসান গুনছেন। এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি মূলত কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দেখে থাকে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’ কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া, আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

আপডেট সময় ০১:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বীজ আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারের ভাড়াসহ উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর ওপর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হিমাগার মালিকরা কৌশলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন আলু সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। হিমাগারগুলোতে বীজ আলুর পরিস্থিতি আরো করুণ। সেখানে প্রতি কেজি বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে।

চাষিদের অভিযোগ, লোকসানের এই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে হিমাগারগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। সরকার প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছয় টাকা নির্ধারণ করে দিলেও হিমাগার কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। তারা বস্তা প্রতি (৫৫-৬০ কেজি) ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সোহেল রানা নামের এক ভুক্তভোগী কৃষক।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তা হিমাগারে বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা চুক্তিতে তিনি ১৫০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ৩৫ বস্তা আলু খালাস করতে গেলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তার কাছ থেকে বস্তা প্রতি ৪১০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। একই হিমাগারে আলু রাখা পুটিমারী ইউনিয়নের চাষি সানার আলী এবং ক্ষুদ্র চাষি আনারুল ইসলামও সমপরিমাণ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। আলু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, গত তিন বছর ধরে লোকসান গুনছেন। এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি মূলত কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দেখে থাকে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’ কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।