ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গাজায় এই ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন?

ফিলিস্তিনবিরোধী ভিডিও বানানোর পর ‘করুণ দশা’ ভারতীয় ব্যবসায়ীর

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনবিরোধী ভিডিও বানানোর পর লন্ডনে ‘করুণ দশা’র শিকার হয়েছেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। হারমান সিং কাপুর নামের ওই রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী গাজায় একটি ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন—এমন প্রশ্ন তুলে ভিডিও প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পরই অনলাইনে তীব্র সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েন হারমান। তার রেস্তোরাঁর গুগল রিভিউতে এক তারকা দেয়া শুরু হয়। হারমানের দাবি, সাইবার হামলায় ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়ে। পরে ১২ অক্টোবর তিনি রেস্তোরাঁটি বাঁচাতে জনসাধারণের কাছে সহায়তা চান। তিনি জানান, বকেয়া ভাড়া ও বাড়িওয়ালার আইনি পদক্ষেপের হুমকির কারণে তিনি চাপে আছেন।

শিখ রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী কাপুর লন্ডনে ‘সিংস ডাইনিং’ নামের একটি নন-হালাল ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেন।

ভিডিওতে তাকে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত একটি ভবনের আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখানো ফোন হাতে দেখা যায়। সঙ্গে থাকা ভিডিওতে ভবনটিকে আল-কাদিসিয়া গার্লস স্কুল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কাপুরের দাবি, ভবনটি ‘ইসরায়েলি’ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তিনি ‘ইসরায়েলি’ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখন আমি বিবি ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করছি… গাজায় এই ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন, কেন?’

ভিডিওটি অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী ব্যবহারকারীরা এটিকে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস হিসেবে দেখেন। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেকে রেস্তোরাঁটির গুগল রিভিউতে এক তারকা দিয়ে ভরিয়ে দেন।

পরে কাপুরের ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি, সাইবার হামলার কারণে অনলাইনে টেবিল বুকিং করা সম্ভব হচ্ছিল না।

১২ অক্টোবর কাপুর সাহায্য চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ নিজের অহংবোধ বিসর্জন দিয়ে আমার রেস্তোরাঁটি বাঁচাতে আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি। রেস্তোরাঁ চালানো আমার কাছে শুধু ব্যবসার চেয়ে বেশি কিছু। এটি আমার আবেগ, আমার জীবিকা… আমরা সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে গুগল শুধু ভুয়া এক তারকা রিভিউ গ্রহণ করছে, অথচ গ্রাহকদের প্রকৃত পাঁচ তারকা রিভিউ গ্রহণ করছে না… বকেয়া ভাড়া এবং বাড়িওয়ালার আদালতে যাওয়ার হুমকির কারণে চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’

তিনি মানুষকে টেবিল বুক করতে, রেস্তোরাঁয় যেতে, তার পোস্টটি শেয়ার করতে এবং সৎ রিভিউ দিতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সিংস ডাইনিং’ একটি ‘নন-হালাল রেস্তোরাঁ হিসেবে গর্বিত’।

পরে আরেকটি পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেন, ওয়েবসাইটটি অচল হয়ে পড়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বন্ধ হচ্ছি না! আমি নিজে ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে… দয়া করে সরাসরি চলে আসুন এবং আমাদের পাশে দাঁড়ান।’

কাপুরের ব্যবসায় এ ধরনের বিপর্যয় এবারই প্রথম নয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তিনি হ্যামারস্মিথে তার আগের রেস্তোরাঁ ‘রংরেজ’ বন্ধ করে দেন। ১৬ বছর ধরে চালানোর পর রেস্তোরাঁটি বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বাড়তি ব্যয়, অনলাইনে হয়রানি, তার ভাষায় পাকিস্তানি হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি গোষ্ঠীর কথিত হামলা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার ভাষায় ‘উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর’ বিরুদ্ধে সরব। ধর্মীয় কারণে তিনি হালাল মাংস পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

অনলাইনে সমালোচকেরা বর্তমান বয়কটের সঙ্গে গাজা নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওটির সরাসরি যোগসূত্র টেনেছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তিনি গাজার শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উপহাস করেছেন।’

নিজেকে শিখ হিসেবে পরিচয় দেয়া আরেকজন বলেছেন, ‘আমি নিজেও একজন শিখ। আমি চাই, এই শূকরটিকে তার আচরণের জন্য শাস্তি দেয়া হোক!! … সবাই, দয়া করে এই জঘন্য লোকটিকে ব্যবসা থেকে হটাতে বয়কট করুন!’

সূত্র: রয়া নিউজ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় এই ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন?

ফিলিস্তিনবিরোধী ভিডিও বানানোর পর ‘করুণ দশা’ ভারতীয় ব্যবসায়ীর

আপডেট সময় ০৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনবিরোধী ভিডিও বানানোর পর লন্ডনে ‘করুণ দশা’র শিকার হয়েছেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। হারমান সিং কাপুর নামের ওই রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী গাজায় একটি ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন—এমন প্রশ্ন তুলে ভিডিও প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পরই অনলাইনে তীব্র সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েন হারমান। তার রেস্তোরাঁর গুগল রিভিউতে এক তারকা দেয়া শুরু হয়। হারমানের দাবি, সাইবার হামলায় ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়ে। পরে ১২ অক্টোবর তিনি রেস্তোরাঁটি বাঁচাতে জনসাধারণের কাছে সহায়তা চান। তিনি জানান, বকেয়া ভাড়া ও বাড়িওয়ালার আইনি পদক্ষেপের হুমকির কারণে তিনি চাপে আছেন।

শিখ রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী কাপুর লন্ডনে ‘সিংস ডাইনিং’ নামের একটি নন-হালাল ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেন।

ভিডিওতে তাকে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত একটি ভবনের আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখানো ফোন হাতে দেখা যায়। সঙ্গে থাকা ভিডিওতে ভবনটিকে আল-কাদিসিয়া গার্লস স্কুল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কাপুরের দাবি, ভবনটি ‘ইসরায়েলি’ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তিনি ‘ইসরায়েলি’ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখন আমি বিবি ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করছি… গাজায় এই ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেন, কেন?’

ভিডিওটি অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী ব্যবহারকারীরা এটিকে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস হিসেবে দেখেন। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেকে রেস্তোরাঁটির গুগল রিভিউতে এক তারকা দিয়ে ভরিয়ে দেন।

পরে কাপুরের ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি, সাইবার হামলার কারণে অনলাইনে টেবিল বুকিং করা সম্ভব হচ্ছিল না।

১২ অক্টোবর কাপুর সাহায্য চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ নিজের অহংবোধ বিসর্জন দিয়ে আমার রেস্তোরাঁটি বাঁচাতে আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি। রেস্তোরাঁ চালানো আমার কাছে শুধু ব্যবসার চেয়ে বেশি কিছু। এটি আমার আবেগ, আমার জীবিকা… আমরা সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে গুগল শুধু ভুয়া এক তারকা রিভিউ গ্রহণ করছে, অথচ গ্রাহকদের প্রকৃত পাঁচ তারকা রিভিউ গ্রহণ করছে না… বকেয়া ভাড়া এবং বাড়িওয়ালার আদালতে যাওয়ার হুমকির কারণে চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’

তিনি মানুষকে টেবিল বুক করতে, রেস্তোরাঁয় যেতে, তার পোস্টটি শেয়ার করতে এবং সৎ রিভিউ দিতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সিংস ডাইনিং’ একটি ‘নন-হালাল রেস্তোরাঁ হিসেবে গর্বিত’।

পরে আরেকটি পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেন, ওয়েবসাইটটি অচল হয়ে পড়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বন্ধ হচ্ছি না! আমি নিজে ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে… দয়া করে সরাসরি চলে আসুন এবং আমাদের পাশে দাঁড়ান।’

কাপুরের ব্যবসায় এ ধরনের বিপর্যয় এবারই প্রথম নয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তিনি হ্যামারস্মিথে তার আগের রেস্তোরাঁ ‘রংরেজ’ বন্ধ করে দেন। ১৬ বছর ধরে চালানোর পর রেস্তোরাঁটি বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বাড়তি ব্যয়, অনলাইনে হয়রানি, তার ভাষায় পাকিস্তানি হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি গোষ্ঠীর কথিত হামলা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার ভাষায় ‘উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর’ বিরুদ্ধে সরব। ধর্মীয় কারণে তিনি হালাল মাংস পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

অনলাইনে সমালোচকেরা বর্তমান বয়কটের সঙ্গে গাজা নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওটির সরাসরি যোগসূত্র টেনেছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তিনি গাজার শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উপহাস করেছেন।’

নিজেকে শিখ হিসেবে পরিচয় দেয়া আরেকজন বলেছেন, ‘আমি নিজেও একজন শিখ। আমি চাই, এই শূকরটিকে তার আচরণের জন্য শাস্তি দেয়া হোক!! … সবাই, দয়া করে এই জঘন্য লোকটিকে ব্যবসা থেকে হটাতে বয়কট করুন!’

সূত্র: রয়া নিউজ