ফারুক হাসানের পুরনো বক্তব্য ভাইরাল
‘আ. লীগের সাথে নুরের হট কানেকশন আছে’
- আপডেট সময় ০৭:২০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হট কানেকশন’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুরনো বক্তব্য ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তাকে এ দাবি করতে শোনা যায়।
ফারুক হাসান বলেন, নুরুল হক নুরের যারা নেতাকর্মী আছে, তার সাথে যারা রাজনীতি করে এরা পরিষ্কারভাবে ছাত্রলীগের যে গুন্ডা বাহিনী স্টাইলে রাজনীতি, সন্ত্রাসী রাজনীতি এই রাজনীতি থেকে উঠে আসা একটা সন্ত্রাসী বাহিনী।
তিনি আরও বলেন, সে যেহেতু আওয়ামী রাজনীতি অর্থাৎ ছাত্রলীগের নেতা ছিল, ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসছে এবং গোপনে আওয়ামী লীগের সাথে তার একটা হট কানেকশন এখনো রয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগ দায়িত্ব দিয়েছে যে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নুরুল হক নুরের মাধ্যমে যাতে বাংলাদেশে পুনর্জন্ম পায় বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।
জানা যায়, ভিডিওটি ২০২৩ সালের। তবে সেই ভিডিওটি নতুন করে আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি এডভোকেট মোঃ তরিকুল ইসলাম।
এ সময় তিনি লেখেন, স্বঘোষিত হাসিনাপুত্র নুর ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনাকে ছাত্রলীগের দেয়া ‘শিবির ট্যাগ প্রোপাগান্ডা’ মেনে নিয়েছিলেন। তিনি চাননি এই ইস্যুতে ক্যাম্পাসে কোনো প্রতিবাদ মিছিল হোক। আটকাতে পারেন নি। স্বঘোষিত হাসিনাপুত্র নুর চাননি, আবরার ফাহাদের হত্যার দাবিতে মিছিলে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান হোক। বহুবার বাঁধা দিয়েছেন। তিনি চাননি সেই মিছিল গুলোতে শেখ হাসিনাবিরোধী কোনো স্লোগান হোক। আটাকতে পারেন নি।
তিনি আরও লেখেন, স্বঘোষিত হাসিনাপুত্র নুর চাননি, আবরার ফাহাদকে নিয়ে কোনো গায়েবানা জানাজা হোক। এমনকি সেই জানাজায় উপস্থিত না হওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজের প্রবল উপস্থিতি ও সমর্থনের চাপে জানাজায় উপস্থিত হতে বাধ্য হন। আটকাতে পারেন নি। কিন্তু তার এত এত মৌলিক আপত্তি সত্ত্বেও তিনি কোনো কিছুই আটকাতে পারেননি। এর মূল কারণ, তিনি এই প্রতিবাদের কোনো ডিসিশন মেকিং বডিতে থাকতে পারেননি। তখন আখতার হোসেন, নাহিদ ইসলাম, আকরাম হোসেন, আমি, আসিফ মাহমুদরাই সকল প্রোগ্রামের লাইন ঠিক করেছি। মাহফুজ আলমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সাপোর্ট দিয়েছেন।
তিনি লেখেন, এর অন্যতম কারণ ২০১৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর টিএসসিতে স্বঘোষিত হাসিনাপুত্র নুর গৌরবের সঙ্গে বলেছিলেন, “সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গড়তেই বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন।” তার এই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যার দরুন আবরার ফাহাদ ইস্যুতে পলিসি মেকিংয়ে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছিলেন। এই বাকশালপন্থী লোক এসে এখন আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার হুমকি দেয়। যারে আমরা খেলায় নেই নাই, সে এখন আবরার ফাহাদের প্রতিবাদের ভূমিকার জনক দাবি করে। হায় সেলুকাস! বাকি সব বাদ দিয়ে শুধু আবরার ফাহাদ ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেই নুরুল হকের প্রতিমন্ত্রীত্বও চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তার উচিত ইতিহাস নিয় কথা বলার সময় রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন থেকে ফারুক হাসানের দল গনঅধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের জুনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি দেখা দিলে দলটির দুই অংশ আলাদা হয়ে যায়। ওই বছরের জুলাইয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশে ফারুক হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ড. রেজা কিবরিয়া আলাদা রাজনৈতিক দল আমজনতার দল গঠন করলে ফারুক হাসান মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের অংশে সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদে যুক্ত হন। এ সময় তাকে উচ্চতর পরিষদের সদস্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদমর্যাদা ও দলীয় মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফারুক হাসান। তখন ১ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি।



















