ফিলিস্তিনি শিশু রজব হত্যায় জড়িত ইসরায়েলি সেনাকে গ্রেপ্তারের দাবি মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবের
- আপডেট সময় ১১:১৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তালিব লিখেছেন, ‘গণহত্যা কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশনের পক্ষভুক্ত দেশ হিসেবে আমাদের সরকার এই যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে এবং তদন্ত করতে বাধ্য।’
গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটের কমান্ডারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তালিব বলেন, ইসরায়েলি সেনা শন গ্লাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হিন্দ রজবের মৃত্যুর ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা তদন্ত করার আইনি দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তালিব লিখেছেন, ‘গণহত্যা কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশনের পক্ষভুক্ত দেশ হিসেবে আমাদের সরকার এই যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে এবং তদন্ত করতে বাধ্য।’
পোস্টের সঙ্গে তালিব হিন্দ রজব ফাউন্ডেশনের (এইচআরএফ) একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, শন গ্লাসকে গ্রেপ্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘শন গ্লাস ‘ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার’ কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রজব, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে পাঠানো চিকিৎসাকর্মীদের হত্যার ঘটনায় এই কোম্পানির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এইচআরএফের তদন্তে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় হিন্দের গাড়ির সরাসরি আশপাশে গ্লাস ও তার সেনারা অবস্থান করছিলেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ গ্লাস যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এইচআরএফ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছে।’
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রতীক হয়ে ওঠে এই ঘটনা।
হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা গাজা সিটি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাদের গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়।
গুলিতে হিন্দের পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। এরপর জরুরি সেবায় ফোন করে উদ্ধারকারীদের কাছে সাহায্য চায় হিন্দ। সে বলেছিল, ‘আমি খুব ভয় পাচ্ছি। দয়া করে আসুন!’
তার ফোনালাপের রেকর্ডিং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত হিন্দ এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা উদ্ধারকারী দল—উভয়েই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হন।
হিন্দ যে গাড়িতে ছিল, সেটিতে ৩৩৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রথমদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় গাড়িটিতে গুলি লাগে।
তবে ফরেনসিক আর্কিটেকচার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তদন্তে ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে বলা হয়, ঘটনার সময় ওই এলাকায় শুধু ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েল তদন্ত শুরু করেছে। তবে ফিলিস্তিনিরা এ ধরনের তদন্তকে দায় এড়ানোর এবং কোনো ঘটনা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ কমে আসা পর্যন্ত সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখে থাকেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছে। গাজায় অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু।
গাজাসহ অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেরও (আইসিসি) নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড






















