ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বি এম কলেজ ছাত্রাবাসে গভীর রাতে ছাত্রদলের তাণ্ডব

সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে মৃত্যুকূপ বানাতে চেয়েছিল ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ মিটিং চলাকালে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ছাত্রাবাসটিকে একপর্যায়ে ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল।

ছাত্রাবাসের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর তথ্যমতে, ছাত্রাবাসের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আগে থেকেই প্রচার চালিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক মিটিংয়ের আয়োজন করেন। মিটিং চলাকালে হঠাৎ করেই বি এম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের নেতৃত্বে প্রায় এক শতাধিক বহিরাগত লোক সেখানে উপস্থিত হন।

পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য চলাকালে মিটিংয়ে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর জের ধরে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিটিং স্থল ত্যাগ করে ছাত্রাবাসের কেয়ারটেকার মোবারকের বাসায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে সিসি ক্যামেরা রুমের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ছাত্রাবাসের সকল সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এ সময় অভিযুক্তদের হাতে রামদা, পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সিসি ক্যামেরা বন্ধের পর মধ্যরাতেই কয়েক ঘণ্টা ধরে ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বরিশাল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গভীর রাতে ছাত্রাবাসে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারত। কিছুদিন পরপরই তাঁরা বহিরাগতদের দ্বারা এভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, অথচ কলেজ প্রশাসন কিংবা ছাত্রাবাস তত্ত্বাবধায়করা এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে বি এম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জানান, তিনি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত নন।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ বি এম কলেজ ছাত্রাবাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বি এম কলেজ ছাত্রাবাসে গভীর রাতে ছাত্রদলের তাণ্ডব

সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে মৃত্যুকূপ বানাতে চেয়েছিল ছাত্রদল

আপডেট সময় ০৬:১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ মিটিং চলাকালে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ছাত্রাবাসটিকে একপর্যায়ে ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল।

ছাত্রাবাসের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর তথ্যমতে, ছাত্রাবাসের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আগে থেকেই প্রচার চালিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক মিটিংয়ের আয়োজন করেন। মিটিং চলাকালে হঠাৎ করেই বি এম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের নেতৃত্বে প্রায় এক শতাধিক বহিরাগত লোক সেখানে উপস্থিত হন।

পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য চলাকালে মিটিংয়ে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর জের ধরে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিটিং স্থল ত্যাগ করে ছাত্রাবাসের কেয়ারটেকার মোবারকের বাসায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে সিসি ক্যামেরা রুমের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ছাত্রাবাসের সকল সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এ সময় অভিযুক্তদের হাতে রামদা, পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সিসি ক্যামেরা বন্ধের পর মধ্যরাতেই কয়েক ঘণ্টা ধরে ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বরিশাল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গভীর রাতে ছাত্রাবাসে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারত। কিছুদিন পরপরই তাঁরা বহিরাগতদের দ্বারা এভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, অথচ কলেজ প্রশাসন কিংবা ছাত্রাবাস তত্ত্বাবধায়করা এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে বি এম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জানান, তিনি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত নন।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ বি এম কলেজ ছাত্রাবাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।